স্টাফ রিপোর্টার।।
কুমিল্লায় অনুমোদিত ইটভাটার সংখ্যা ১৭০টির কম-বেশি হবে। এসব ভাটায় ইট প্রস্তুতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মজা পুকুর, পতিত জায়গা ও চরাঞ্চলের বা চরের মাটি ব্যবহার হয়ে থাকে। চরাঞ্চলে যারা অবৈধভাবে মাটি চুরি করে কাটছে, তারা যেমন অভিযানের মুখে পড়ছে তেমনি বৈধভাবে ইট প্রস্তুতের জন্য মাটি সংগ্রহ করতে গিয়ে একই অভিযানের মুখে পড়তে হচ্ছে ইটভাটার লোকদের। ইট প্রস্তুতে চরের বা পতিত জায়গা কিংবা অন্যান্য উৎস থেকে মাটি সংগ্রহে সরকারি নির্দেশনা মেনে থাকলেও সম্প্রতি কুমিল্লার গোমতী নদীর চরাঞ্চলের মাটি কাটা নিয়ে প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযানে মাটির উৎস নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ইটভাটা মালিকরা।
ইভাটার মাটি সংগ্রহের জন্য সরকারের যে নির্দেশনা রয়েছে, এবিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা না থাকায় মাটি আর ইটের ভারসাম্য রক্ষায় সংকট তৈরি হচ্ছে। ফলে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনের প্রণীত অধ্যাদেশে ইট প্রস্তুতের জন্য কোন কোন উৎস থেকে মাটি সংগ্রহ করা যাবে এবিষয়ে স্পষ্ট উল্লেখ থাকলেও প্রশাসনের অভিযান বা বাধার কারণে ইট প্রস্তুতের অন্যতম উপাদান মাটি সংগ্রহে হুমকির মুখে পড়ছে ভাটাগুলো। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কুমিল্লার ইট প্রস্তুতকারি সমিতির নেতৃবৃন্দ বলছেন, ইটভাটায় মাটি সরবরাহের পথ সহজতর না হলে এই শিল্প অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।
ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন সংশোধিত আইন- ২০১৮তে ইটভাটার জন্য মাটি সংক্রান্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জেলা প্রশাসকের অনুমোদনক্রমে কোনো ব্যক্তি ইট প্রস্তুত করবার উদ্দেশ্যে মজা পুকুর বা খাল বা বিল বা খাঁড়ি বা দিঘি বা নদ-নদী বা হাওর-বাওড় বা চরাঞ্চল বা পতিত জায়গা থেকে মাটি কাটতে বা সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে শর্ত থাকে যে, ইটভাটার লাইসেন্সের জন্য আবেদনপত্রে প্রস্তাবিত ইটভাটার মালিক কর্তৃক ইট প্রস্তুতের মাটির উৎস উল্লেখপূর্বক হলফনামা দাখিল করতে হবে। কুমিল্লার ইটভাটা মালিকদের দাবি, ইটভাটায় প্রয়োজনীয় মাটি চরাঞ্চল ও পতিত জায়গা, কখনো বা মজা পুকুরের মতো উৎস থেকেই আসছে। ফলে বছরে ইট প্রস্তুতে যে পরিমান ঘটফুট মাটির প্রয়োজন বা চাহিদা দেখা দেয় তা এসব উৎস থেকে প্রাপ্ত মাটিতেই পূরণ সম্ভব হচ্ছে। ফসলি জমি বা কৃষির কিংবা গোমতী বাঁধের ক্ষতি হবে এমন উৎস থেকে কখনই ইটভাটার জন্য মাটি সংগ্রহ করা হয় না।
কুমিল্লা ইট প্রস্তুতকারি সমিতির অর্থ সম্পাদক আবদুল মতিন বলেন, ‘কুমিল্লার ইটভাটাগুলো সরকারকে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব দিচ্ছে। ইটভাটার প্রয়োজনীয় মাটি মজা পুকুর এবং অনুমোদিত স্থান থেকে সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। মাটি সংগ্রহের ক্ষেত্রে সরকারি অধ্যাদেশের নির্দেশনার বিন্দুমাত্র বরখেলাপ আমরা করছি না। প্রশাসনকে যারা ভুল বুঝাচ্ছে, তারাই সরকারি অধ্যাদেশে উল্লেখ করা ইট প্রস্তুতের জন্য মাটি সংগ্রহের বিষয়ে ওয়াকিবহাল নন। সঠিক নিয়মে মাটি কেটে আনা হচ্ছে কিনা এটা প্রশাসন যাচাই-বাছাই করুক। নিয়মের ব্যতয় ঘটলে আইনি ব্যবস্থা নেবেন, কিন্তু নিয়মে থাকলে ইটভাটার মাটি সংগ্রহে প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।’
সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ফরহাদ হোসেন ভূইয়া জানান, ‘ইটভাটার বাইরে অনেকেই নিয়ম বহির্ভূতভাবে চরের মাটি অবৈধভাবে চুরি করে কেটে নিচ্ছে, এজন্য তো ইট প্রস্তুতকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দায়ি হতে পারে না। যারা মাটি চুরি করছে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন আইনি ব্যবস্থা নিবে এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু আইন ও নির্দেশনা মেনে ইটভাটার মাটি সংগ্রহের ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়তে হবে কেনো?’
এবিষয়ে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমা তুজ জোহরা জানান, ‘ইটভাটার জন্য চরের যে মাটি কাটা হচ্ছে, ভাটা মালিকরা বৈধভাবে নিয়ম মেনেই কাটছেন। পাশাপাশি অবৈধভাবেও মাটি কাটা হচ্ছে। এমন অবস্থায় এখন মাটি কাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযান চলছে। ইটভাটা মালিকদের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে, ওনারা কোন উৎস থেকে বৈধভাবে মাটি কাটবেন বিষয়টি নিয়েও আলোচনা চলছে।’
মোবাইল: +8801740652911
ইমেল: journalistbabo@gmail.com
www.comillanews.com