স্টাফ রিপোর্টার।।
কুমিল্লা নগরীর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কালিয়াজুরী শীলবাড়ি এলাকার বাসিন্দা শারীরিক প্রতিবন্ধী ইতি রানী শীল (২৭) তার সৎ ভাই কেশব চন্দ্র শীল ও ভাবি প্রতিমা রানী শীলের বিরুদ্ধে পৈতৃক সম্পত্তি আত্মসাৎ, ভরণপোষণ বঞ্চনা এবং দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন।
বুধবার (২৪ জুন) কুমিল্লা নগরীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে ইতি রানী শীল বলেন, শারীরিক অক্ষমতার সুযোগ নিয়ে ছোটবেলা থেকেই তার সৎ ভাই কেশব চন্দ্র শীল ও তার স্ত্রী প্রতিমা রানী শীল তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। তাদের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে প্রায় ১৮ বছর আগে তিনি পৈতৃক বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় বড় বোন মনি রানী শীলের কাছে আশ্রয় নেন। দীর্ঘদিন সেখানে বসবাসের পর ২০২৩ সালে পারিবারিক কারণে তিনি আবার কুমিল্লার পৈতৃক বাড়িতে ফিরে আসেন। কিন্তু বাড়িতে ফেরার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই তার ওপর পুনরায় নির্যাতন শুরু হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি জানান, নিরুপায় হয়ে ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে কুমিল্লা আদালতের অধীন জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থায় (লিগ্যাল এইড) সৎ ভাই ও ভাবির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিনামূল্যের আইনি সহায়তা কর্মসূচির আওতায় আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিউলী বেগম তার পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে লিগ্যাল এইড কর্তৃপক্ষ তার ভরণপোষণ ও ব্যক্তিগত খরচ বাবদ প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেয়।
তবে অভিযোগ অনুযায়ী, আদালতের সেই সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে কেশব চন্দ্র শীল তাকে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা প্রদান করেননি। ফলে তিনি ও তার বড় বোন স্থানীয় সমাজপতি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দ্বারস্থ হন।
ইতি রানী শীল বলেন, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় সামাজিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সমাজের প্রতিনিধিরা হিন্দু পারিবারিক আইনের আলোকে একজন প্রতিবন্ধী সন্তানের ভরণপোষণ নিশ্চিত করার বিষয়ে মত দেন। পাশাপাশি তাদের পৈতৃক ২৮ শতাংশ জমি থেকে তার নামে ২ শতাংশ জমি লিখে দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। কিন্তু অভিযুক্ত কেশব চন্দ্র শীল ও তার পরিবার ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অস্বীকৃতি জানায়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সামাজিক বৈঠক শেষে সমাজের লোকজন চলে যাওয়ার পর তার সৎ ভাই, ভাবি ও তাদের সন্তানরা তাকে এবং তার বড় বোনকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। একই সঙ্গে পৈতৃক ভিটাবাড়ির মূল ফটকে তালা লাগিয়ে তাদের সেখানে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে ওই এলাকায় না আসার জন্য হুমকি দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ইতি রানী শীল বলেন, “আমি একজন অবিবাহিত ও শারীরিক প্রতিবন্ধী নারী। নিজের পৈতৃক বাড়িতে থাকার অধিকার থেকেও আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে আমি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। আমার মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। আমি প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই।”
তিনি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, তার পৈতৃক সম্পত্তিতে ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি লিগ্যাল এইডের সিদ্ধান্ত অমান্য এবং নির্যাতনের অভিযোগে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। একই সঙ্গে তার ও তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে শীলবাড়ির সর্দার নারায়ণ চন্দ্র শীল, সুনীল চন্দ্র শীল, আশীষ কুমার রায়, নিকিল চন্দ্র শীল, রেনু মিয়া, মিজানুর রহমানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মোবাইল: +8801740652911
ইমেল: journalistbabo@gmail.com
www.comillanews.com