আতাউর রহমান।।
অধ্যবসায়, একাগ্রতা ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি গভীর ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে কুমিল্লার এক কিশোর। মাত্র ২০ মাসে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা মুখস্ত করে হাফেজ হওয়ার বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেছে ১৩ বছর বয়সী মুহাম্মদ আরাফাত হোসেন। তার এ সাফল্যে পরিবার, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে।
আরাফাত কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার পুকুরপাড় গ্রামের বাসিন্দা মো. আকতার হোসেন ও শিখা আক্তার দম্পতির ছেলে। তার হাফেজ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চট্টগ্রাম বারীয়া দরবার শরীফের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত সদর ইউনিয়নের মুহিব্বানে রহমাতুল্লিল আলামিন হাফেজিয়া মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক হাফেজ মুহাম্মদ রবিউল্লাহ সিকদার।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, আরাফাতের জন্মের পর থেকেই তাকে কোরআনের হাফেজ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখতেন তার বাবা-মা। সেই লক্ষ্য নিয়েই ২০২৩ সালের ১ মার্চ তাকে মাদ্রাসার নূরানী বিভাগে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সে হিফজ বিভাগে ভর্তি হয় এবং অক্লান্ত পরিশ্রম, নিয়মিত অনুশীলন ও শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে মাত্র ২০ মাসে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা সম্পূর্ণ মুখস্ত করে হাফেজ হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
শিশু হাফেজ মুহাম্মদ আরাফাত হোসেন বলেন, আমি সবসময় হুজুরদের দেওয়া পড়ার চেয়ে বেশি পড়ার চেষ্টা করেছি। আল্লাহর অশেষ রহমত, মা-বাবার দোয়া এবং ওস্তাদদের আন্তরিক সহযোগিতায় আমি ৩০ পারা কোরআন মুখস্ত করতে পেরেছি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন বড় আলেম হয়ে ইসলাম ও মানুষের খেদমত করতে পারি।
আরাফাতের বাবা মো. আকতার হোসেন বলেন, ছেলেকে হাফেজ বানানো আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। আল্লাহ আমাদের সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন। আমি সকলের কাছে দোয়া চাই, সে যেন দ্বীনি শিক্ষায় আরও সমৃদ্ধ হয়ে ইসলাম ও মানবতার কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করতে পারে।
আরাফাতের হিফজ শিক্ষক হাফেজ মুহাম্মদ রবিউল্লাহ সিকদার বলেন, শুরু থেকেই আরাফাত অন্য শিক্ষার্থীদের তুলনায় পড়াশোনায় অনেক বেশি আগ্রহী ছিল। সে অত্যন্ত পরিশ্রমী, মনোযোগী ও মেধাবী। নিয়মিত অনুশীলন এবং দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির কারণেই সে এত অল্প সময়ে এই অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জন করেছে। আমরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।
মোবাইল: +8801740652911
ইমেল: journalistbabo@gmail.com
www.comillanews.com