মনোয়ার হোসেন।।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে এক নববধূকে অপহরণ করতে কিশোর গ্যাং সদস্যরা হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে। এ সময়ে অস্ত্রের মুখে ওই নববধূকে অপহরণের চেষ্টা করলে স্বজনরা বাঁধা দিলে কিশোর গ্যাং সদস্যরা ৪ জনকে কুপিয়ে আহত করে। এই ঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে।
তথ্যটি মঙ্গলবার দুপুরে নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আরিফ হোছাইন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়নের কাতালিয়া গ্রামে। এই ঘটনায় নববধূর শ্বশুড় মাইন উদ্দিন মজুমদার ১৮ জনের বিরুদ্ধে সোমবার রাতে থানায় মামলা দায়ের করে।
মামলায় উল্লেখ করেন, পাশ্ববর্তী শ্রীপুর ইউনিয়নের বসুয়ারা গ্রামের কোব্বাস মিয়ার ছেলে আল-আমিনের নেতৃত্বে একটি কিশোর গ্যাং দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকাতে সক্রিয় রয়েছে। তারা শ্রীপুরে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে মাদক ব্যবসায়, অনেকের পারিবারিক ঝামেলাতে পক্ষ নিয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম, স্কুল-মাদ্রাসার ছাত্রীদের উত্যাক্ত করাসহ নানান অপকর্ম করে আসছে।
সম্প্রতি ওই কিশোর গ্যাং লিডার আল আমিন বসুয়ারা গ্রামের কাতার প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের মেয়ে ইসরাত জাহান স্থানীয় গোপালনগর মাদ্রাসায় আসা-যাওয়ার পথে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। ইসরাত তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় প্রতিনিয়ত তাকে বিভিন্ন ভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা করতে থাকে। এরই মধ্যে পারিবারিক ভাবে গত ৯ মে (শুক্রবার) ইসরাত জাহানের সাথে কাশিনগর ইউনিয়নের কাতালিয়া গ্রামের মজুমদার বাড়ির সাকিব হোসেনের সাথে বিয়ে সম্পন্ন হয়।
এতে আল আমিন ক্ষিপ্ত হয়ে তার নেতৃত্বে ১০-১৫ জন কিশোর গ্যাং সদস্যরা গত শুক্রবার রাতে মোটর সাইকেল ও হাইয়েস মাইক্রো নিয়ে অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে ইসরাত জাহানকে বাড়ি থেকে উঠিয়ে নেয়ার জন্য হামলা চালায়। এলাকাবাসী টের পেয়ে ধাওয়া করলে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা একটি মোটর সাইকেল ও দেশীয় কিছু অস্ত্র রেখে পালিয়ে যায়।
শনিবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে শ্বশুড় বাড়িতে নেয়া হয় ইসরাত জাহানকে। রোববার রাতে কিশোর গ্যাং লিডার আল আমিনের নেতৃত্বে একটি হাইয়েস মাইক্রোবাসযোগে ১০-১২ জন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা কাতালিয়া গ্রামে ইসরাত জাহানের শ্বশুড় বাড়িতে হামলা চালিয়ে ইসরাত জাহান, তাঁর শ্বশুড় মাঈন উদ্দিন, শ্বাশুড়ি নুরজাহান বেগম ও দেবর মোঃ সায়মনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে ইসরাত জাহানকে অপহরণের চেষ্টা করে। পরে গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে তাদের ধাওয়া দিলে কিশোর গ্যাং সদস্যরা পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, ভুক্তভোগীদের পরিবার সোমবার রাতে কিশোর গ্যাং লিডার আল-আমিনকে প্রধান আসামী করে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার ২নং আসামী আবদুল কুদ্দসকে গ্রেফতার করেছে। অন্য আসামীদের আটক করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে’। গ্রেফতারকৃতকে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
মোবাইল: +8801740652911
ইমেল: journalistbabo@gmail.com
www.comillanews.com