
শামীম রায়হান।।
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার প্রায় সাড়ে তিনশ বছরের ঐতিহ্যবাহী বানিয়াপাড়া দরবারের ৮০তম বার্ষিক আজিমুশশান ইসালে সওয়াব ও দোয়ার মাহফিল বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, প্রায় ৩৫০ বছর পূর্বে ইরাকের বাগদাদ নগরী থেকে আগত সুফি সাধক হযরত আব্দুর রহমান (রহ.) উপমহাদেশে ইসলাম ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে আগমন করেন। তিনি কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার জিংলাতলী ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া এলাকায় তার আত্মীয়স্বজনের বসতবাড়ির নিকট অবস্থান নিয়ে ধর্ম প্রচার শুরু করেন এবং এ এলাকায় প্রথম একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন।
ধীরে ধীরে তিনি সাধারণ মানুষের মাঝে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দিতে শুরু করেন। ইসলাম ধর্মের আহ্বানের পাশাপাশি তাঁর আধ্যাত্মিক সাধনা ও অলৌকিক ঘটনাবলির মাধ্যমে সে সময়কার মানুষ ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হতে থাকে। এতে তার প্রতি মানুষের বিশ্বাস দৃঢ় হয় এবং বহু মানুষ পূর্বের ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে।
তাঁর ওফাতের পর থেকে বংশপরম্পরায় তাঁর উত্তরসূরিরা তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করে দরবারের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। এর ধারাবাহিকতায় বানিয়াপাড়া দরবার আজও আধ্যাত্মিক সাধনা ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
প্রতিবছর মাঘ মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার শতাব্দীপ্রাচীন এই দরবারের মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। মাহফিলের দিন আসরের নামাজের পর দরবারের বর্তমান পীর ও রাহমানিয়া কাফেলা বাংলাদেশ-এর আমির আলহাজ হযরত মাওলানা মো. আবু বকর সিদ্দিক আল কাশেমী এর আরজ গোজার ও মোনাজাতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এতে দেশবরেণ্য আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের প্রখ্যাত ইসলামী বক্তারা ধর্মীয় আলোচনা পেশ করেন।
প্রতিবছরের মতো এবারও শীত মৌসুমে আয়োজিত এই মাহফিলে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের ব্যাপক উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, প্রতি বছর এই মাহফিলে লক্ষাধিক ভক্ত ও মুসল্লীর সমাগম ঘটে।
পুণ্য প্রত্যাশীদের দানকৃত গরু, ছাগল ও বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর সমন্বয়ে আগত সকল মেহমানদের মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়। অনেক ভক্ত বিশ্বাসের সঙ্গে এই তবারক গ্রহণ করে আত্মিক প্রশান্তি ও রোগমুক্তির আশা করে থাকেন। মাহফিল উপলক্ষে আশপাশের প্রায় ১০টি গ্রামের বিভিন্ন বয়সের কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবক বিনা পারিশ্রমিকে আগত মেহমানদের সার্বিক সেবায় নিয়োজিত থাকেন।
রাতব্যাপী চলা আজিমুশশান ইসালে সওয়াবের এই মাহফিল শেষে ভক্তরা ফজরের নামাজ ও আখেরি মোনাজাত সম্পন্ন করে নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
উল্লেখ্য, মাহফিল এলাকা ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে ইতোমধ্যে দাউদকান্দি মডেল থানা, দাউদকান্দি হাইওয়ে থানা, কুমিল্লা জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মাহফিল এলাকা পরিদর্শন করেছেন। মাহফিল কমিটির সঙ্গে একাধিক বৈঠক শেষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি আগত মুসল্লীদের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা সেবার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
মোবাইল: +8801740652911
ইমেল: journalistbabo@gmail.com
www.comillanews.com