
স্টাফ রিপোর্টার।।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শিদলাই ৯নং ওয়ার্ডের আলী আকবর মুন্সি বাড়ি এলাকায় আমেরিকা প্রবাসী সাংবাদিকের পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের সঙ্গে স্থানীয় শফিকুল ইসলাম গং ও মৃত সুন্দর আলী গংদের দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। অভিযোগ অনুযায়ী, খতিয়ান নং–৩৪০২, বিএস খতিয়ান নং–২৫৭৫ এবং দাগ নং–৭৩১৮ ও ৭৩২৪-এর অন্তর্ভুক্ত প্রায় ১৫ শতক পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে আসছে অভিযুক্তরা।
এ বিষয়ে গত ০৭ জুলাই ২০২৫ তারিখে কুমিল্লা বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দক্ষিণ আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি করেন মৃত শফিকুল ইসলামের ছেলে, আমেরিকা প্রবাসী সাংবাদিক মোঃ সাইফুল ইসলামের বড় ভাই সোহরাব হোসেন (৩২)। মামলায় শিদলাই ৯নং ওয়ার্ডের মৃত সুন্দর আলীর ছেলে নানু মিয়া (৫৫), অলি উল্লাহ মেন্টু (৫০), বেদন মিয়া (৪৬), মৃত আবদুল মতিনের ছেলে মহসিন (৩৪) ও মোঃ জুয়েল রানা (৩২)-সহ মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়। মামলাটি বর্তমানে আদালতে চলমান রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা বহিরাগত লোক ভাড়া করে গত ২১ জানুয়ারি সকালে বাড়ির দক্ষিণ পাশে পুকুর পাড়ের একাধিক গাছ কেটে নিয়ে যায়। এতে বাধা দিতে গেলে তারা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
পরবর্তীতে বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেয়। এরপর ভুক্তভোগী বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩–৪ জনের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে উল্লেখিত আসামিরা হলেন— মৃত সুন্দর আলীর ছেলে নানু মিয়া (৫৫), অলি উল্লাহ মেন্টু (৫০), বেদন মিয়া (৪৬), মৃত আবদুল মতিনের ছেলে মহসিন (৩৪), নানু মিয়ার ছেলে মোঃ জুয়েল রানা (৩২) এবং অলি উল্লাহ মেন্টুর ছেলে মোঃ হাবিব (২০)।
অভিযোগ পাওয়ার পর বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের গাছ কাটতে দেখতে পায়। তাৎক্ষণিকভাবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় পুলিশ।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণপাড়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) টমাস বড়ুয়া বলেন, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একজন অফিসারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএসআই কামরুজ্জামান জানান, “অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি কিছু লোক গাছ কাটছে। দু’পক্ষকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
মোবাইল: +8801740652911
ইমেল: journalistbabo@gmail.com
www.comillanews.com