১০:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বুড়িচংয়ে সিএনজি ও মোটরসাইকেল সংঘর্ষে চালক নিহত, গুরুতর আহত ২ দাউদকান্দিতে তিনশত বছরের ঐতিহ্যবাহী বানিয়াপাড়া দরবারের ইছালে সওয়াবের মাহফিল আগামীকাল চৌদ্দগ্রামে “ভার্ড কামাল ডিপ্লোমা নার্সিং ইনস্টিটিউট” প্রতিষ্ঠা হলে দূর হবে বেকারত্ব ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্র্যান্ট পেল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিকতা বিভাগ সুবিধাবঞ্চিত ও শিক্ষার্থীদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন ‘দুর্বার বাংলাদেশ’ দারুল আরকাম তাহ্ফীযুল কোরআন স্কুল এন্ড মাদ্রাসায় অভিভাবক সমাবেশ ও পুরস্কার বিতরণ বুড়িচংয়ে অন্তঃসত্ত্বা নারী হত্যাকাণ্ড: ভারতে পালানোর আগমুহূর্তে ৩ আসামি গ্রেফতার কুমিল্লায় নিখোঁজের ১২ দিন পর খাল থেকে অটোরিকশা চালকের লাশ উদ্ধার কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কা; সুপারভাইজার নিহত কুমিল্লার মুরাদনগরে খাল থেকে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার

শিক্ষক সিন্ডিকেটের অপতৎপরতায় ফের অস্থিরতায় কুমিল্লা মডার্ণ হাই স্কুল

  • তারিখ : ১১:০১:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • 517

নিজস্ব প্রতিবেদক।।
কুমিল্লা মডার্ণ হাই স্কুলে ফের অস্থিরতা সৃষ্টি ও শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্টের অপতৎপরতা শুরু হয়েছে। নতুন বছরে শিক্ষার্থী ভর্তি ও আগামী এসএসসি পরীক্ষার্থীদের চূড়ান্ত প্রস্তুতিসহ শিক্ষা কার্যক্রমে বিঘ্ন ও অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে একটি মহল। এসবের নেপথ্যে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর স্বেচ্ছায় পদত্যাগকারি সাবেক প্রধান শিক্ষক আকতার হোসেন ও তাঁর রেখে যাওয়া শিক্ষক সিন্ডিকেটের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।

এদিকে বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, কর্মচারিদের রাজনৈতিক লেজুরবৃত্তিতা ছেড়ে নিজেদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি না করে শিক্ষার সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

অপরদিকে সাবেক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ভর্তিবাণিজ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ের অভিযোগ তদন্তের জন্য সদ্য বদলী হওয়া জেলা প্রশাসক মো. আমিরুল কায়ছার জেলা শিক্ষা অফিসারকে প্রধান করে যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছিলেন, সেই কমিটির তদন্ত দীর্ঘ এক বছরেও অগ্রগতি না হওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদনের অগ্রগতি না থাকায় বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিং ও ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টি হচ্ছে। যা প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমের অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা মডার্ণ হাই স্কুলের দিবা ও প্রভাতী শাখায় প্রায় আট হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে এমপিওভুক্ত ৪৫জন ও নন-এমপিওভুক্ত ৯২জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তৎকালিন জেলা প্রশাসকের কাছে স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে বিদ্যালয় ছেড়ে যাওয়ার পর ফ্যাসিস্টদের দোসর আক্তার হোসেনকে স্কুলে ফের স্বপদে ফিরিয়ে আনতে কতিপয় শিক্ষক চেষ্টা-তদবিরে নেমেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, এসব শিক্ষকরা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের অনুসারির আদলে কাজ করতেন এবং এদের দুই/তিনজন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের ওয়ার্ড কমিটির পদে নিজেদের নামও লিখিয়েছিলেন।

এদিকে জেষ্ঠ্যতার ভিত্তিতে সরকারি বিধি অনুযায়ি তৎকালিন জেলা প্রশাসক কর্তৃক দায়িত্ব প্রদান করা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুসরাত জাহানকে নানাভাবে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা এবং শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিং সৃষ্টি ও বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টির অপতৎপরতা চালাচ্ছেন সাবেক প্রধান শিক্ষকের সিন্ডিকেট। ফলে ৩২ বছরে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের আস্থার প্রতীক কুমিল্লা মডার্ণ হাই স্কুলে অস্থিরতা ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্টের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অনেকেই জানান, এক বছরেরও বেশি সময় পর সাবেক প্রধান শিক্ষক আকতার হোসেনকে বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনার নামে শিক্ষকদের একটি অংশ অহেতুক নিজেরাই বিরোধে জড়াচ্ছেন। নতুন করে একজন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে জেলা প্রশাসন ভূমিকা রাখলে বিতর্কিত সাবেক প্রধান শিক্ষককে নিয়ে টানাহেঁচড়ার জায়গাটি বন্ধ হয়ে যেতো এবং তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তের অগ্রগতি হতো।

এদিকে সাবেক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের বিষয়ে জানতে রোববার (৭ ডিসেম্বর) তদন্ত কমিটির প্রধান জেলা শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলামকে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

error: Content is protected !!

শিক্ষক সিন্ডিকেটের অপতৎপরতায় ফের অস্থিরতায় কুমিল্লা মডার্ণ হাই স্কুল

তারিখ : ১১:০১:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক।।
কুমিল্লা মডার্ণ হাই স্কুলে ফের অস্থিরতা সৃষ্টি ও শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্টের অপতৎপরতা শুরু হয়েছে। নতুন বছরে শিক্ষার্থী ভর্তি ও আগামী এসএসসি পরীক্ষার্থীদের চূড়ান্ত প্রস্তুতিসহ শিক্ষা কার্যক্রমে বিঘ্ন ও অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে একটি মহল। এসবের নেপথ্যে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর স্বেচ্ছায় পদত্যাগকারি সাবেক প্রধান শিক্ষক আকতার হোসেন ও তাঁর রেখে যাওয়া শিক্ষক সিন্ডিকেটের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।

এদিকে বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, কর্মচারিদের রাজনৈতিক লেজুরবৃত্তিতা ছেড়ে নিজেদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি না করে শিক্ষার সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

অপরদিকে সাবেক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ভর্তিবাণিজ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ের অভিযোগ তদন্তের জন্য সদ্য বদলী হওয়া জেলা প্রশাসক মো. আমিরুল কায়ছার জেলা শিক্ষা অফিসারকে প্রধান করে যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছিলেন, সেই কমিটির তদন্ত দীর্ঘ এক বছরেও অগ্রগতি না হওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদনের অগ্রগতি না থাকায় বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিং ও ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টি হচ্ছে। যা প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমের অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা মডার্ণ হাই স্কুলের দিবা ও প্রভাতী শাখায় প্রায় আট হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে এমপিওভুক্ত ৪৫জন ও নন-এমপিওভুক্ত ৯২জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তৎকালিন জেলা প্রশাসকের কাছে স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে বিদ্যালয় ছেড়ে যাওয়ার পর ফ্যাসিস্টদের দোসর আক্তার হোসেনকে স্কুলে ফের স্বপদে ফিরিয়ে আনতে কতিপয় শিক্ষক চেষ্টা-তদবিরে নেমেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, এসব শিক্ষকরা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের অনুসারির আদলে কাজ করতেন এবং এদের দুই/তিনজন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের ওয়ার্ড কমিটির পদে নিজেদের নামও লিখিয়েছিলেন।

এদিকে জেষ্ঠ্যতার ভিত্তিতে সরকারি বিধি অনুযায়ি তৎকালিন জেলা প্রশাসক কর্তৃক দায়িত্ব প্রদান করা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুসরাত জাহানকে নানাভাবে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা এবং শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিং সৃষ্টি ও বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টির অপতৎপরতা চালাচ্ছেন সাবেক প্রধান শিক্ষকের সিন্ডিকেট। ফলে ৩২ বছরে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের আস্থার প্রতীক কুমিল্লা মডার্ণ হাই স্কুলে অস্থিরতা ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্টের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অনেকেই জানান, এক বছরেরও বেশি সময় পর সাবেক প্রধান শিক্ষক আকতার হোসেনকে বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনার নামে শিক্ষকদের একটি অংশ অহেতুক নিজেরাই বিরোধে জড়াচ্ছেন। নতুন করে একজন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে জেলা প্রশাসন ভূমিকা রাখলে বিতর্কিত সাবেক প্রধান শিক্ষককে নিয়ে টানাহেঁচড়ার জায়গাটি বন্ধ হয়ে যেতো এবং তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তের অগ্রগতি হতো।

এদিকে সাবেক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের বিষয়ে জানতে রোববার (৭ ডিসেম্বর) তদন্ত কমিটির প্রধান জেলা শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলামকে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।