স্টাফ রিপোর্টার।।
সাবেক পাঁচবারের সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদকে জড়িয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য, মিথ্যাচার এবং নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে কুমিল্লার মুরাদনগরে ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে মুরাদনগর উপজেলা সদরের উপজেলা পরিষদ মার্কেট এলাকা থেকে ঝাড়ু হাতে নিয়ে হাজারো নারী-পুরুষ বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি উপজেলা চত্বর ও থানা এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘ঝাড়ু মারো তালে তালে’, ‘আসিফ মাহমুদ অবাঞ্ছিত’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
আয়োজকদের দাবি, সাবেক জনপ্রিয় এমপি কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদকে নিয়ে আসিফ মাহমুদের দেওয়া বক্তব্যে মুরাদনগরের সর্বস্তরের মানুষ ক্ষুব্ধ। মিছিলে নারী-পুরুষ, তরুণ সমাজের পাশাপাশি আলেম-ওলামা ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়। জুলাই–আগস্ট আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী তরুণ-তরুণীরাও এ বিক্ষোভে অংশ নেন।
বিক্ষোভ শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা নাহিদুল ইসলাম নাহিদ বলেন, “আমরা জুলাই–আগস্টে আন্দোলন করেছিলাম একটি নতুন বাংলাদেশ পাওয়ার আশায়। কিন্তু আমাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতায় গিয়ে আসিফ মাহমুদ দুর্নীতিতে জড়িয়ে সেই স্বপ্নকে কলঙ্কিত করেছে। নিজের অপকর্ম আড়াল করতেই তিনি মুরাদনগরের জনপ্রিয় নেতা কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছেন।”
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাবেক ইউপি সদস্য ছিনু আক্তার। তিনি বলেন, “আসিফ মাহমুদ দুর্নীতিবাজ বলেই নির্বাচনে অংশ নেয়নি। সৎ সাহস থাকলে জনগণের রায়ে নির্বাচিত হওয়ার চেষ্টা করত। ঢাকায় বসে ষড়যন্ত্র করত না। আমরা মুরাদনগরের মানুষ তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি।” তিনি কায়কোবাদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করে কঠোর প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি দেন।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তৌহিদুর রহমান বলেন, “কায়কোবাদের মতো জনপ্রিয় একজন নেতার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ বা রেফারেন্স ছাড়াই আসিফ মাহমুদের দেওয়া বক্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন। এমন একজন ব্যক্তি উপদেষ্টা ছিলেন—এটা ভাবতেই বিস্ময় জাগে। কায়কোবাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র নতুন নয়, অতীতেও নানা ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে তিনি টিকে আছেন।”
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, “মুরাদনগরের মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন আলহাজ কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। তাঁর জনপ্রিয়তার কারণেই অতীতে তাঁকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিল। এখন আবার একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি—আসিফ মাহমুদকে আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা হোক।”
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, কায়কোবাদের বিরুদ্ধে চলমান অপপ্রচারের পেছনে একটি সংগঠিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে। তারা বলেন, মুরাদনগরের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে এসব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে।












