
নিজস্ব প্রতিবেদক।।
দুই বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু কুমিল্লার এই বাড়ি আজও যেন অপেক্ষা করছে এক মেয়ের জন্য। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্রী ফাইরুজ সাদাফ ওরফে অবন্তিকার (২৪) প্রিয় সব বই, আসবাবপত্র, খেলনা—সবই রুমে আগের মতোই আছে। কিন্তু সে নেই।
মা তাহমিনা শবনম বলেন, “রুমটা আগের মতোই আছে—বই, টেবিল, চেয়ার সব আছে। কিন্তু আমার মেয়ের হাসি, আমার মেয়ের উপস্থিতি নেই। সবই যেন অচল, শুধু স্মৃতি বেঁচে আছে।”

অবন্তিকার বাবা অধ্যক্ষ প্রফেসর জামাল হোসেন আগেই মারা গেছেন। মেয়ের মৃত্যুর পর, পরিবারে একমাত্র কন্যার চলে যাওয়া শুধু মাকে নয়, ছোট ভাইকেও গভীর শোকের মধ্যে ফেলেছে। মা বলেন, “ছোট ছেলে এখন যেন বড় হয়ে গেছে হঠাৎই—কিন্তু কেমন যেন খালি। অবন্তিকার জিনিস, তার রুম, সব কিছু এখনও চোখের সামনে।”
২০২৪ সালের ১৫ মার্চ কুমিল্লার নিজ বাড়িতে অবন্তিকার অকাল মৃত্যু ঘটে। ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে নামে। মামলার তদন্ত শেষে সহপাঠী রায়হান সিদ্দিকীকে অভিযুক্ত করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষও দুই বছর ধরে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সব প্রমাণ ও ঘটনার তথ্য পর্যবেক্ষণ করে তারা যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে চেষ্টা করছে।
মেয়ের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় আটটি মসজিদে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করেছেন মা। স্বজন ও প্রতিবেশীরা অংশ নিয়ে অবন্তিকার আত্মার শান্তি কামনা করেন।
একটি কক্ষ, যেখানে প্রতিটি বই, প্রতিটি আসবাবপত্র তার উপস্থিতি মনে করায়, এক মায়ের নিঃশেষ ভালোবাসা এবং ছোট ভাইয়ের চোখে বাকি থাকা শূন্য—অবন্তিকার স্মৃতি আজও বেঁচে আছে এই বাড়িতে।