কুমিল্লায় শিশু ইয়াসিন হত্যা: আসামি বিল্লালের মৃত্যুদণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার।।
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বহুল আলোচিত শিশু ইয়াসিন ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি বিল্লাল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, ফরেনসিক আলামত ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।

বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে কুমিল্লার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার রায় ঘোষণা করেন কুমিল্লার বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আব্দুল হান্নান। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালতের জারি করা মৃত্যুদণ্ড পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

Post Inside

দণ্ডপ্রাপ্ত বিল্লাল হোসেন কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পূর্ণমতি গ্রামের হারুনুর রশীদের ছেলে।

শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন বলেন, ২০২৪ সালে সংঘটিত এ মামলায় ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ এবং উপস্থাপিত প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত বলে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডের রায় দিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, প্রথমে ঘটনাটি নিখোঁজের জিডি হিসেবে নথিভুক্ত হলেও তদন্তে এটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়। তদন্তে উঠে আসে, শিশুটিকে যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছিল।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বুড়িচং উপজেলার পূর্ণমতি গ্রামের চা-ব্যবসায়ী আক্কাস মিয়ার নয় বছর বয়সী ছেলে ইয়াসিন বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে ১ অক্টোবর বুড়িচং থানায় একটি নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এর ছয় দিন পর, ৫ অক্টোবর বিকেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের নিমসার পরিহলপাড়া এলাকার একটি পুকুরে শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা দেবপুর পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

পরদিন ৬ অক্টোবর নিহতের বাবা আক্কাস মিয়া বিল্লাল হোসেন ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে বুড়িচং থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ইয়াসিন নিখোঁজ হওয়ার আগে স্থানীয়রা তাকে বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে একটি দোকানে নাস্তা করতে দেখেছিলেন। এছাড়া ইয়াসিন নিজেও তার মা খোদেজা বেগমকে জানিয়েছিল যে, সে বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে নিমসার বাজারে যাবে। এরপর থেকেই তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

তদন্তে গ্রেপ্তারের পর বিল্লাল হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিনি শিশুটিকে বাজারে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে যৌন নির্যাতন করেন। পরে ইয়াসিন বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। প্রমাণ গোপনের উদ্দেশ্যে মরদেহ পাশের একটি পুকুরে ফেলে রাখেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতের এ রায়ে নিহত শিশুর পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে তারা দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।

আরো পড়ুন
error: Content is protected !!