কুমিল্লার রেললাইন থেকে উদ্ধার হওয়া বেওয়ারিশ মরদেহটি কুমেক ইন্টার্ন চিকিৎসকের

জহিরুল হক বাবু।।
কুমিল্লা নগরীর অশোকতলা রেলগেটের দক্ষিণ পাশ থেকে গত ২৪ জানুয়ারি শনিবার কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. কাওসার তাহমিদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা না যাওয়ায় পুলিশ মরদেহটি অজ্ঞাত পরিচয়ে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে এবং পরে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফনের জন্য আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম কুমিল্লাকে দায়িত্ব দেয়।

Post Inside

পরদিন ২৫ জানুয়ারি রোববার কুমিল্লা নগরীর টিক্কারচর কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ময়মনসিং পুলিশের দেওয়া একটি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত হয়।

পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর গতকাল (২৭ জানুয়ারি) মঙ্গলবার বিকেলে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে টিক্কারচর কবরস্থান থেকে তাঁর মরদেহ উত্তোলন করা হয়। পরে নিহত চিকিৎসকের বাবা নজরুল ইসলাম মরদেহটি ময়মনসিংয়ে নিয়ে যান।

কুমিল্লা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সাহিদার রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

কুমিল্লা জিআরপি পুলিশ ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, নিহত ডা. কাওসার তাহমিদ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ২৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে ইন্টার্ন চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি বিবাহিত হলেও তাঁর কোনো সন্তান নেই। তাঁর গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার সদর উপজেলায়।

সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মরদেহ উদ্ধারের সময় তাঁর নাক, মুখ ও কান শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল। পুলিশ জানায়, পরিচয় শনাক্ত করতে না পারায় মরদেহটি অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তীতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে পিবিআইয়ের মাধ্যমে যাচাই করলে জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়।

পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর বিষয়টি ময়মনসিংহ পুলিশের সংশ্লিষ্ট ফাঁড়িকে জানানো হয়। তবে পারিবারিক ঠিকানা পরিবর্তনের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে স্বজনদের খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় কুমিল্লা রেলওয়ে পুলিশ আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফনের ব্যবস্থা করে।

পরবর্তীতে ময়মনসিং পুলিশের এক সদস্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এনআইডি-সংক্রান্ত একটি পোস্ট দিলে তা নিহতের এক পরিচিত ব্যক্তির নজরে আসে। এরপরই বিষয়টি পরিবার ও সহকর্মীদের কাছে পৌঁছে যায়।

নিহত চিকিৎসকের চাচা মোহাম্মদ লিটন জানান, কাওসার তাহমিদ কিছুটা মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। ২৬ জানুয়ারি দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা কুমিল্লায় এসে জানতে পারেন, তাঁকে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে। পরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাফর সাদিক চৌধুরীর কাছে আবেদন করে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ায় মরদেহ উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হয়।

সহপাঠীরা জানান, ডা. কাওসার তাহমিদ দীর্ঘদিন সিজোফ্রেনিয়ায় ভুগছিলেন। নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরছিলেন এবং থার্ড ও ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। মৃত্যুর দুই দিন আগেও তিনি স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছেন এবং ঘটনার দিন তাঁকে হাসিখুশি দেখা গেছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজসহ চিকিৎসক সমাজে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আরো পড়ুন
error: Content is protected !!