
আলমগীর কবির।।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও ২৪ জুলাই ফ্যাসিবাদমুক্ত দিবস উদযাপন উপলক্ষে কুমিল্লার চৌয়ারায় বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) বৃহত্তর চৌয়ারা সুশীল সমাজের উদ্যোগে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
“কুমিল্লা হোক সন্ত্রাসমুক্ত”, “জাস্টিস, জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস”, “বৈষম্যের ঠাঁই নাই” ও “রক্তের বিনিময়ে মুক্ত দেশ”সহ নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে চৌয়ারা এলাকা।

সকালে চৌয়ারা মনু মিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ থেকে র্যালি শুরু হয়ে চৌয়ারা বাজারের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন।
চৌয়ারা এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবক ও আধুনিক চৌয়ারা বাজার উন্নয়নের অন্যতম উদ্যোক্তা ডা. সহিদুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে আয়োজিত কর্মসূচিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
র্যালি শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ডা. সহিদুল হক চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাইফুল হক চৌধুরী।
সভায় বক্তব্য দেন চৌয়ারা ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসার অধ্যক্ষ সফিকুল আলম পাটোয়ারী, চৌয়ারা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, এমএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম, চৌয়ারা কলেজের সহকারী অধ্যাপক রেজাউল করিম, সিনিয়র শিক্ষক আবুল বাসার এবং সমাজসেবক সহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
বক্তারা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধসহ সকল শহীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে বৈষম্যহীন, সন্ত্রাসমুক্ত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
র্যালিতে অংশ নেয় চৌয়ারা নূরানী মহিলা দাখিল মাদরাসা, চৌয়ারা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, চৌয়ারা মনু মিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চৌয়ারা আদর্শ ডিগ্রি কলেজ, চৌয়ারা ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং চৌয়ারা বাজার ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্যরা।
সমাপনী বক্তব্যে ডা. সহিদুল হক চৌধুরী উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “অতীতের জরাজীর্ণ চৌয়ারা বাজারকে ৫ আগস্টের পর আমরা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি আধুনিক ও সুশৃঙ্খল বাজারে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছি। সাধারণ মানুষ এর সুফল পাচ্ছে। ভবিষ্যতেও সবার সহযোগিতা পেলে উন্নয়নের ধারা আরও বেগবান হবে।”
তিনি ২০২৪ সালের আন্দোলনে ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন।
দিনব্যাপী কর্মসূচিতে চৌয়ারার ব্যবসায়ী সমাজ, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং এলাকার সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। আয়োজকদের ভাষ্য, ফ্যাসিবাদমুক্ত দিবস উপলক্ষে এ বর্ণাঢ্য আয়োজন চৌয়ারাবাসীর স্মৃতিতে দীর্ঘদিন উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।