
স্টাফ রিপোর্টার।।
টিকটকে পরিচয়, এরপর ইমোতে প্রেম। সেই প্রেমের টানে ঢাকা থেকে কুমিল্লায় এসে ১৩ বছরের এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিয়ের দাওয়াতের কথা বলে কিশোরীকে কুমিল্লায় ডেকে এনে নির্জন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে ধর্ষণ ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে প্রেমিক রাজীব আহমেদের বিরুদ্ধে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে আহত অবস্থায় কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রাজীব আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার রাজীব আহমেদ কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের মিরপুর উত্তরপাড়া গ্রামের আজগর আলীর ছেলে। তিনি সম্প্রতি এইচএসসি পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি পাহাড়ের পাদদেশের নির্জন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শনিবার ভোররাতে ময়নামতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করে দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্র জানায়, টিকটক ও ইমোর মাধ্যমে রাজীবের সঙ্গে ওই কিশোরীর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শুক্রবার রাজীব তার খালাতো বোনের বিয়ের দাওয়াতের কথা বলে কিশোরীকে ঢাকা থেকে কুমিল্লায় আসতে বলেন। রাত ৯টার দিকে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বাস থেকে নামলে রাজীব তাকে গ্রহণ করেন।
পরে দুজন একসঙ্গে একটি হোটেলে খাবার খান। রাত ১টার দিকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে রাজীব কিশোরীকে ময়নামতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে নির্জন স্থানে নিয়ে ভোর ৩টা পর্যন্ত তাকে একাধিকবার ধর্ষণ ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। পরে আহত অবস্থায় কিশোরীকে ফেলে রেখে পালিয়ে যান রাজীব।
দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক সুরজিত বড়ুয়া জানান, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল সংলগ্ন এলাকা থেকে ১৩ বছরের কিশোরীকে উদ্ধার করে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। কিশোরীর কাছে থাকা ছবি ও মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে অভিযুক্ত রাজীবের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
এরপর রাজীবকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালায় পুলিশ। শনিবার রাতে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান জানান, অভিযুক্ত রাজীব আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।