হিফজুল কোরআনে প্রথম কুমিল্লার বুড়িচংয়ের মেয়ে ফাতেমা

স্টাফ রিপোর্টার।।
বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া কওমী মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে হিফজুল কোরআন বিভাগে ৩ জেলার মধ্যে ১ম স্থান অর্জন করেছেন মোসাম্মৎ ফাতেমা (১৪)। কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার মোকাম ইউনিয়নের পাঁচকিত্তা (হক মেম্বার বাড়ি)’র শহীদুল ইসলাস (৫০) ও পারভীন আক্তারের (৩৫) বড় সন্তান ফাতেমা। চান্দিনার উম্মে হানি (রাঃ) মহিলা মাদরাসা থেকে এমন কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখায় তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তার শিক্ষক, অভিভাবক, আলেমসমাজ ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

জানা যায়, ২০২৬ সালে সারা দেশে কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে কয়েক লাখ শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করে। এতে একযোগে শুধু তাহফিজুল কোরআর স্তরে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে। সবাইকে ছাড়িয়ে চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি অর্জন করেন হাফিজা মোসা: ফাতেমা। পরীক্ষায় তার রোল ছিলো ২৬৬০ ও রেজিষ্ট্রেশন নং ছিলো ১০৩০৪৬। কওমী শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে হিফয (ইয়াদ), তাজভীদ ও দীনিয়াত (মৌখিক) বিষয়ে মোট ২০০ নাম্বারের পরীক্ষায় ১৯৮ নাম্বার পেয়ে শ্রেষ্ঠত্বের রেকর্ড গড়েন ফাতেমা।

Post Inside

শিক্ষার্থীর সাফল্যের কথা শুনে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ইব্রাহিম খলিল বলেন, ফাতেমা কঠোর পরিশ্রমী ছাত্রী ছিলেন, নিয়মিত অধ্যয়ন, বাবা-মা ও শিক্ষকদের প্রতি আনুগত্য তাকে শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি এনে দিয়েছে। আল্লাহ যেন তাকে দ্বীনের প্রকৃত দ্বায়ি হিসেবে কবুল করেন এই প্রত্যাশা রাখছি।
একই এলাকার বাসিন্দা ও ময়নামতি দারুসসুন্নাত আলিম মাদ্রাসার সহকারি মৌলভী মাওলানা ফারুক আহমেদ বলেন, সেরা হওয়ার এমন অর্জন খুব কম সংখ্যক এলাকার ভাগ্যে জুটে। আমরা তার আরও সাফলতা কামনা করছি।

ফাতেমার পিতা মো: শহীদুল ইসলাম (৫০) বলেন, পড়াশোনায় ফাতেমাকে খুব বেশি শাসন করতে হয়নি। ছোটো বেলা থেকে সে আমাদেরকে মান্য করতো ও বড়দের উপদেশ শুনতো।

শ্রেষ্ঠত্বের অনুভূতি প্রকাশ করে ফাতেমা বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি ভালো ফলাফল অর্জন করেছি। বড় হয়ে একজন ভালো মানুষ হতে চাই। প্রকৃত আলেম হয়ে ইসলাম ও মানুষের সেবা করতে চাই। তাই সবার দোয়া ও শুভ কামনা প্রত্যাশা করছি।

আরো পড়ুন
error: Content is protected !!