
মোহাম্মদ শরীফ।।
কুমিল্লার হোমনা উপজেলার ভাষানিয়া ইউনিয়নের ডহর গোপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রকে ঘিরে নির্বাচনী সহিংসতার জেরে ফলাফল ঘোষণার পর ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ২০টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০ লাখ টাকা বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে ভাঙচুরের চিহ্ন দেখা যায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, হামলা ও মিথ্যা মামলার আশঙ্কায় গ্রামের বহু পুরুষ অন্যত্র সরে গেছেন। বাড়িতে অবস্থানরত নারীরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

হামলার শিকার নসু মিয়া, জসিম ও শাহআলম জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে তাতুয়াকান্দি এলাকার কিছু লোক জাল ভোট দিতে এলে কেন্দ্রের সীমানায় প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে তাদের ওপর হামলা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেওয়া হয়।
কেন্দ্রটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মতিন খান তাঁর ‘তালা’ প্রতীকে ২১ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। অভিযোগ রয়েছে, ফলাফল ঘোষণার পর সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান এবং মোহনপুরের ডা. আবুল খায়েরের বাড়িসহ কয়েকটি বসতঘরে হামলা চালানো হয়। পরে রাতে বিএনপির প্রার্থীর জয়ের খবরে আরও একটি দফা হামলায় অন্তত ২০টি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয় বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় রয়েছেন-মোহনপুরের ডা. আবুল খায়ের, ডহর গোপের কামরুজ্জামান, নসু মিয়া, সৃষ্টি মিয়া, নুর জাহান, মানিক, সেফালী, তাহের, মুক্তিযোদ্ধা সামছুল হক, শাহজালাল, জসিম, হবি, ফারুক, রিপন, শাহীন, আলাউদ্দিন, রনি, সেলিম, ভুট্টু, নজরুল, মহিউদ্দিন, মানিক নসু, জুলাস, হানিফ, ইনু, সবুজ, আমির হোসেন ও শফিকসহ আরও অনেকে।
উভয় পক্ষের ক্ষতিগ্রস্তরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশিদ আলম চৌধুরী বলেন, হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের বিষয়টি তিনি শুনেছেন; তবে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। স্থানীয়ভাবে মীমাংসার প্রক্রিয়া চলছে বলেও তিনি জানান।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিরাপত্তা জোরদার ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত সমাধান প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।