
স্টাফ রিপোর্টার।।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদকের টাকার জন্য সেজদারত অবস্থায় মাকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে মো. আবু বক্কর ছিদ্দিক (৪৬) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে কুমিল্লার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক সাবরিনা নার্গিস এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আবু বক্কর সিদ্দিক আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের পাশাকোট গ্রামে মাদকের টাকা না পেয়ে আবু বক্কর সিদ্দিক তার মা মোছা. খায়েরা বেগম ওরফে খায়রুন্নেছা (৮০)-কে জোহরের নামাজ আদায়ের সময় সেজদারত অবস্থায় কুড়াল দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেন।
ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। পরে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে মাওলানা আবুল কাশেম বাদী হয়ে ছোট ভাই আবু বক্কর সিদ্দিককে আসামি করে চৌদ্দগ্রাম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, চৌদ্দগ্রাম থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাসের তদন্ত শেষে ২০২১ সালে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষীদের সাক্ষ্য, আলামত ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত মঙ্গলবার এ রায় প্রদান করেন।
রায় ঘোষণার পর মামলার বাদী মাওলানা আবুল কাশেম সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, তার ভাই দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করছিল। মাদকের টাকার জন্য প্রায়ই মায়ের ওপর নির্যাতন চালাত। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার পারিবারিক ও সামাজিকভাবে সালিশ হলেও তার আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ঘটনার দিন জোহরের নামাজের সময় সেজদারত অবস্থায় তিনি মাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেন।
তিনি এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান।