
স্টাফ রিপোর্টার।।
কুমিল্লার মুরাদনগরে বিএনপির এক নেতার দায়ের করা এক হাজার কোটি টাকার মানহানি মামলায় মুরাদনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক মাহবুব আলম আরিফকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে গ্রেপ্তারের ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় পার হলেও বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়নি। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ জানায়, বুধবার বিকেলে উপজেলার গাইঢুলি এলাকা থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে মাহবুব আলম আরিফকে আটক করা হয়।

মাহবুব আলম আরিফ উপজেলার সদর এলাকার মৃত মনিরুল হকের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দৈনিক আজকের পত্রিকা, মানবকণ্ঠ এবং স্থানীয় আজকের কুমিল্লা পত্রিকার মুরাদনগর প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৭ জুন প্রকাশিত একটি সংবাদের সূত্র ধরে মাহবুব আলম আরিফ তার পরিচালিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ওই ঘটনার একমাত্র আসামি ফজর আলীকে বিএনপি নেতা হিসেবে উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশ করেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই বছরের ৯ জুলাই মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বাদী হয়ে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১১ নম্বর আমলি আদালতে এক হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে আরিফের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। পরবর্তীতে ওই মামলায় জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর বুধবার বিকেলে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, তার বিরুদ্ধে একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি সাংবাদিক এ বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না।
তবে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠাতে বিলম্বের কারণ জানতে ওসির মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এদিকে, ওসির বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। তাদের দাবি, মাহবুব আলম আরিফ মুরাদনগরের একজন সুপরিচিত সাংবাদিক। রাজনৈতিক কারণে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে তারা দ্রুত তাকে আদালতে সোপর্দ করে স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দাবি জানান।