
স্টাফ রিপোর্টার।।
টানা ভারি বর্ষণ, পাহাড়ধসের আশঙ্কা এবং সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় রাঙামাটির জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেক ভ্যালি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এর ফলে কুমিল্লা থেকে ভ্রমণে যাওয়া ১০ যুবকসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শতাধিক পর্যটক টানা তিন দিন ধরে সাজেকে আটকা পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সাজেক আর্মি ক্যাম্পের পক্ষ থেকে মাইকিং করে পর্যটকদের নিজ নিজ হোটেল ও রিসোর্টে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের জুডিসিয়াল মুন্সিখানা শাখা থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা আশরাফীর স্বাক্ষরিত জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিরূপ আবহাওয়া ও সম্ভাব্য পাহাড়ধসের ঝুঁকি বিবেচনায় পর্যটক এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালি পর্যটন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ সময়ে সাজেকের সব পর্যটন স্পট, ঝর্ণা, পাহাড়ি ট্রেইল, দুর্গম এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটর এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও ভ্রমণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। পাশাপাশি রাঙামাটি জেলায় চলাচলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, অবিরাম বর্ষণে মাচালং, বাঘাইহাট ও দিঘীনালা এলাকায় সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে আটকে পড়া পর্যটকদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে মঙ্গলবার সকালে কুমিল্লা থেকে বন্ধুদের নিয়ে সাজেক ভ্রমণে যান দৈনিক আমার দেশ কুমিল্লা প্রতিনিধি এম. হাসান। তিনি জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকেই সাজেকে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। বুধবার ফিরে আসার পরিকল্পনা থাকলেও সড়কে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বৃহস্পতিবারও তারা ফিরতে পারেননি। তার সঙ্গে কুমিল্লার আরও ১০ জন যুবক সেখানে আটকে রয়েছেন।
ঢাকা থেকে স্ত্রীকে নিয়ে সাজেকে বেড়াতে যাওয়া ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান বলেন, “বৃহস্পতিবার ফেরার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ টানা বৃষ্টিতে সড়কের ওপর পানি উঠে যাওয়ায় আটকা পড়ে গেছি। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় আছি।”
সাজেকের রুইলুই পাড়ার রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “এ বছর টানা দুই দিনের ভারি বর্ষণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পর্যটকদের বাইরে বের হওয়া সম্ভব নয়।”
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, “আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। যাদের জরুরি প্রয়োজন, তাদের বিশেষ ব্যবস্থায় নিরাপদে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য আশ্রয়কেন্দ্রও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।”
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সাজেকে নতুন করে কোনো পর্যটককে না যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পর্যায়ক্রমে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।