
মোঃ ইয়াছিন মিয়া।।
মাদক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়তে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানা পুলিশ। মাদক ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তোহিদুল আনোয়ার বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাদক ব্যবসা বন্ধ না করলে এলাকায় থাকা সব মাদকের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। পরে স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিষ্ণুপুর এলাকার দুটি মাদকের আস্তানা ভেঙে দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে কুমিল্লা নগরীর বিষ্ণুপুর মৌলভীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ‘পরিবার, সমাজ ও দেশ বাঁচাতে, মাদক রুখতে হবে একসাথে’এই প্রতিপাদ্যে মাদক ও চুরির প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিশাল জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ১ নম্বর ওয়ার্ডের সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে শত শত মানুষ অংশ নেন।

১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর কাজী গোলাম কিবরিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওসি মো. তোহিদুল আনোয়ার বলেন, “মাদক ও চুরি একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মাদকাসক্তরা টাকার জন্য বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আদর্শ সদর এলাকাকে অপরাধমুক্ত করতে পুলিশ প্রশাসন বদ্ধপরিকর।”
তিনি আরও বলেন, “মাদক ছাড়, না হয় এলাকা ছাড়ো।” একই সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ীদের সাত দিনের মধ্যে এ অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে তিনি এলাকাবাসীকে মাদক ও অপরাধসংক্রান্ত তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি মাদক ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অন্যথায় তাদের ঠিকানা হবে কারাগার। পাশাপাশি তথ্যদাতাদের পরিচয় সর্বোচ্চ গোপন রাখার আশ্বাস দেন।
সভাপতির বক্তব্যে সাবেক কাউন্সিলর কাজী গোলাম কিবরিয়া বলেন, বিষ্ণুপুর ও মৌলভীপাড়া এলাকায় কোনোভাবেই মাদক ব্যবসায়ী কিংবা চোরের আস্তানা গড়ে উঠতে দেওয়া হবে না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষায় পাড়া-মহল্লাভিত্তিক সামাজিক প্রতিরোধ আরও শক্তিশালী করা হবে।
সমাবেশে স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সাদেকুর রহমান, মমতাজ বেগম, জহুরুল হক, বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিন, বদিউল আলম বাবুল এবং সাংবাদিক মাসুক আলতাফ চৌধুরীসহ অনেকে বক্তব্য দেন। বক্তারা এলাকায় মাদকের কেনাবেচা বন্ধ, চুরির সিন্ডিকেট দমন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত টহল জোরদারের দাবি জানান। পরে মাদক ও চোরমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে বিশেষ মোনাজাত ও শপথ গ্রহণ করা হয়।
সমাবেশ শেষে মাগরিবের নামাজের পর সাবেক কাউন্সিলর কাজী গোলাম কিবরিয়া ও কোতোয়ালি থানার ওসি মো. তোহিদুল আনোয়ারের নেতৃত্বে স্থানীয় বাসিন্দারা বিষ্ণুপুর এলাকার দুটি মাদকের আস্তানা ভেঙে দেন। এ ঘটনায় এলাকায় মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন আরও বেগবান হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।