কুমিল্লায় রাস্তায় সাইড দেওয়াকে কেন্দ্র করে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

লালমাই প্রতিনিধি।।
কুমিল্লার লালমাই উপজেলার নাটোপাড়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার সাইড দেওয়াকে কেন্দ্র করে ফরিদ আহমেদ (৪০) নামে একজনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছে দুজন ইতালি প্রবাসীসহ ৫ জন।

শুক্রবার (৩ মে) সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারী মামুন হোসেনকে (৩০) এলাকাবাসী ধাওয়া করে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

Post Inside

নিহত ফরিদ আহমেদ উপজেলার বেলঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের নাটোপাড়া গ্রামের মৃত কলিমুদ্দীনের ছেলে। তিনি ওই গ্রামের ইতালি প্রবাসী তাহেরের বাড়ির কেয়ারটেকার ও দিনমজুর ছিলেন।

আহতরা হলেন- ওই গ্রামের ইতালি প্রবাসী তাহের, তার স্ত্রী তানজিনা, শ্যালক আবদুল্লাহ, শ্বশুর আবু তাহের, শাশুড়ি হাছিনা বেগম।

প্রত্যক্ষদর্শী ইতালি প্রবাসী হারুনের স্ত্রী শিরিনা আক্তার বলেন, শুক্রবার বিকেলে আমার দেবর তাহের, তার স্ত্রী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও শ্যালক সিএনজি অটোরিকশা করে বাড়ি ফিরছিলেন।

ইউনুছের বাড়ির সামনে আসলে নাটোপাড়া গ্রামের হাকিম আলী, আবুল হাসেম, তার ছেলে মাসুদ ও মামুনকে বহনকারী অন্য একটি অটোরিকশা ক্রসিং করার সময় সাইড দেওয়াকে কেন্দ্র করে তর্কাতর্কি হয়। মাসুদ মামুনরা আমার দেবরসহ সিএনজির যাত্রীদের মারধর করে। খবর পেয়ে ফরিদ ভাই ঘটনাস্থলে যেতে লাগলে হামলাকারীরা তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। আমি হামলাকারীদের কাছে ফরিদ ভাইয়ের প্রাণ ভিক্ষা চেয়েছি। তারা আমার কথা শোনেনি। হাসপাতালে নেওয়ার পর রাত ৯টায় ফরিদ ভাই মারা গেছেন। গ্রামবাসী হামলাকারী মামুনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে।

নিহতের স্ত্রী নাসিমা বেগম বলেন, আমরা গরিব মানুষ। আমার স্বামী ইতালি প্রবাসী তাহের ভাইয়ের বাড়ির কেয়ারটেকার ও দিনমজুরের কাজ করতো।

তাহের ভাইয়ের ওপর হামলার খবর পেয়ে আমার স্বামী ঘটনাস্থলে যাওয়ার সময় হামলাকারীরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে।

ভুশ্চি বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম বলেন, নিহতের ঘটনায় মামুন নামে একজন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। হামলার ঘটনায় ব্যবহৃত দেশীয় কয়েকটি অস্ত্র গ্রাম পুলিশ বিল্লাল হোসেনের মাধ্যমে উদ্ধার করা হয়েছে।

লালমাই থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল্লাহ আল মাহফুজ বলেন, ঘটনার পরপরই আমি ও সদর দক্ষিণ সার্কেল স্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

আরো পড়ুন
error: Content is protected !!