আতাউর রহমান।।
কুমিল্লা-মিরপুর সড়কের ব্রাহ্মণপাড়া অংশে চলমান সংস্কার কাজের কারণে সড়কে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজটের। যার ফলে প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের পড়তে হচ্ছে চরম দুর্ভোগে।

তবে মানুষের এই ভোগান্তি লাঘবে এগিয়ে এসেছে সাহেবাবাদ ডিগ্রি কলেজের বিএনসিসির সদস্যরা।
মঙ্গলবার ( ৩ ফেব্রুয়ারি ) সকালে কুমিল্লা-মিরপুর সড়কের ব্রাহ্মণপাড়া অংশে এমন চিত্রই দেখা গেছে।
বিএনসিসির সদস্যরা সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে তারা স্বেচ্ছাশ্রমে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ও যানজট নিরসনে কাজ করছেন। যানবাহন সুশৃঙ্খলভাবে চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া, পথচারীদের নিরাপদে পারাপার নিশ্চিত করাসহ সার্বিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন তারা। এতে যানজটের দুর্ভোগ অনেকাংশেই কমে এসেছে।

সড়কের যাত্রী ও স্থানীয়রা জানান, বিএনসিসি সদস্যদের এই উদ্যোগে যানজট কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তারা বিএনসিসির সদস্যদের এই মানবিক ও দায়িত্বশীল কর্মকাণ্ডকে স্বাগত জানিয়ে প্রশংসা করছেন। তারা বলছেন, দুর্ভোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এমন উদ্যোগ মানবতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
সড়কে চলাচলকারী যাত্রী আমিনুল ইসলাম বলেন, রাস্তায় কাজ চলায় খুব জ্যাম হচ্ছে। ভোগান্তির পাশাপাশি সময়ের অনেক অপচয় হচ্ছে। তবে বিএনসিসির ছেলেরা আসার পর এখন গাড়ি চলাচলে অনেকটা স্বাভাবিক শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। মানুষের ভোগান্তি অনেকটা কমে এসেছে।
সড়কের যাত্রী সামিয়া ইসলাম বলেন, প্রতিদিনই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। ভাঙ্গাচুরার কারণে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে উঠেছিল। অনেক প্রতীক্ষার পর সংস্কার কাজ চলছে, তবে এর ফলে সড়কে সীমাহীন যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তবে বিএনসিসি সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকায় যানজট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এতে আমাদের উপকার হচ্ছে।
সিএনজি চালক মো. সুমন মিয়া বলেন, রাস্তার কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে জ্যামের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে অপেক্ষা করে থাকতে হতো। অপেক্ষা খুব কষ্টের, তবে বিএনসিসি সদস্যদের তৎপরতায় যানজট অনেকটাই কমে গেছে। আগের তুলনায় ভোগান্তিও কমেছে।

বিএনসিসির এক সদস্য বলেন, সড়কে সংস্থার কাজ চলায় সাধারণ মানুষরা যানজটের দুর্ভোগে পড়ছেন। একজন বিএনসিসি সদস্য ও সুনাগরিক হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব বলে মনে করেছি। সেই জায়গা থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা স্বেচ্ছায় সড়কে যান চলাচল শৃঙ্খল রাখতে কাজ করছি। এতে যদি মানুষের কষ্ট কিছুটা হলেও কমে সেটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
বিএনসিসির আরেক সদস্য বলেন, সড়কের সংস্কার কাজ চলার কারণে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, এতে রোগী, নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষ সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন। তাদের নিরাপদে পারাপার নিশ্চিত করা এবং যানবাহন সুশৃঙ্খলভাবে চলাচলে সহযোগিতা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও যেকোনো মানবিক প্রয়োজনে বিএনসিসি সদস্যরা মানুষের পাশে থাকবে।