কুমিল্লায় এনএসআইর তথ্যের ভিত্তিতে বিপুল পরিমাণ নকল ওষুধ, কেমিক্যাল ও মেশিন জব্দ

স্টাফ রিপোর্টার।।
কুমিল্লায় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও পুলিশের যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ নকল ও অননুমোদিত ওষুধ, ওষুধ তৈরির কাঁচামাল, উৎপাদন মেশিন ও বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এ সময় নকল ওষুধ উৎপাদন ও সরবরাহকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) সকালে জেলা এনএসআই কুমিল্লা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

Post Inside

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত জেলা এনএসআই কুমিল্লার তথ্যের ভিত্তিতে, সংস্থাটির সদস্যদের সরেজমিন উপস্থিতি এবং পুলিশের সহযোগিতায় কুমিল্লা মহানগরের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড সংলগ্ন শ্রীবল্লভপুর এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে পিকআপ থেকে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি ১৮ হাজার ৬৬০ পিস অননুমোদিত নকল ক্যাপসুল, ট্যাবলেট ও সিরাপ, প্রায় ১০০ কেজি ওষুধ তৈরির কেমিক্যাল পাউডার, ৭ লিটার তরল কেমিক্যাল, প্রায় ২০ হাজার প্যাকেট ওষুধের লেবেল, ১৫ কেজি ফয়েল পেপার এবং নকল ওষুধ উৎপাদনে ব্যবহৃত তিনটি মেশিন জব্দ করা হয়।

এ সময় নকল ওষুধ উৎপাদন ও সরবরাহ চক্রের সদস্য অভিযোগে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার শ্রীনিবাস গ্রামের বাসিন্দা জুনায়েদ ইসলাম (৩০)কে আটক করা হয়। তিনি মো. আব্দুল কাদেরের ছেলে।

পরে জব্দ করা মালামাল সদর দক্ষিণ মডেল থানায় নেওয়া হয়। সদর দক্ষিণ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নির্দেশনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং জেলা ঔষধ প্রশাসনের সহকারী পরিচালক ফখরুল ইসলামের উপস্থিতিতে জব্দকৃত মালামালের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এ ঘটনায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় নিয়মিত আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, অভিযানের আগে থেকেই কুমিল্লা বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত একটি গুদামে মজুদ থাকা এসব অবৈধ মালামালের ওপর জেলা এনএসআই নজরদারি চালিয়ে আসছিল। একপর্যায়ে গুদাম থেকে মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার তথ্য পেয়ে এনএসআই সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করেন। পরে পরিকল্পিত অভিযানে পিকআপভর্তি নকল ওষুধ, কাঁচামাল ও উৎপাদন সরঞ্জাম জব্দের পাশাপাশি চক্রের এক সদস্যকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, জব্দকৃত কেমিক্যাল, মেশিন ও মোড়ক ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে নকল ওষুধ উৎপাদন করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আরো পড়ুন
error: Content is protected !!