অবুঝ দুই সন্তানের জন্য বাঁচতে চান ক্যানসার আক্রান্ত জাহাঙ্গীর

আতাউর রহমান।।
মাত্র পাঁচ মাস আগেও চট্টগ্রামের একটি রেস্টুরেন্টে ওয়েটারের কাজ করে কোনোরকমে পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতেন মো. জাহাঙ্গীর আলম ( ৩৫ )। বৃদ্ধ মা, স্ত্রী, শারীরিক প্রতিবন্ধী বড় ছেলে ও ছোট্ট আরেক ছেলে সন্তানকে নিয়ে তার ছোট্ট সংসার।

সংসারে অভাব ছিল, কিন্তু ছিল বেঁচে থাকার স্বপ্নও। সেই স্বপ্নে হঠাৎই নেমে আসে অন্ধকার। গত তিন মাস আগে তীব্র জ্বর ও শরীর ব্যথা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে চিকিৎসক তাকে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেন। একের পর এক পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফল হাতে পাওয়ার পর মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে পুরো পরিবার। পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্টে ধরা পড়ে, জাহাঙ্গীর র‍্যাবডোমায়োসারকোমা ( Rhabdomyosarcoma ) নামে বিরল ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত। তারপর থেকে শুরু হয় বেঁচে থাকার যুদ্ধ আর আকুতি।

Post Inside

অসুস্থতার কারণে এখন আর কাজ করতে পারছেন না জাহাঙ্গীর। হাঁটাচলাও করতে পারছেন না ঠিকমতো। প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে অন্যের ওপর ভর করে যাতায়াত করেন তিনি। বর্তমানে সংসারে নেই নিয়মিত কোনো আয়। চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে জমানো সামান্য অর্থ শেষ হওয়ায়র পাশাপাশি ধারদেনাও করতে হয়েছে। এখন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার মতো সামর্থ্যও নেই পরিবারের।

মো. জাহাঙ্গীর আলম কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের বেজুরা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে। ছোটবেলাতেই বাবাকে হারিয়েছেন। বড় এক ভাই ছিল, সেও মারা গেছে। বাড়ির ভিটে ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো জমিজমাও নেই। দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে একটি রেস্টুরেন্টে ওয়েটারের কাজ করেই বাবাহীন সংসারের হাল ধরেছিলেন তিনি।

জাহাঙ্গীরের স্ত্রী শারমিন আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামী অত্যন্ত অসুস্থ। তার ক্যানসার ধরা পড়েছে। আমাদের ঘরে ছোট দুটি সন্তান। বড় ছেলেটি শারীরিক প্রতিবন্ধী। আল্লাহর পর তাদের বাবাই আমাদের একমাত্র ভরসা। ঘরে যা সামান্য অর্থ জমা ছিল তা চিকিৎসায় খরচ করেছি, ধারদেনাও করেছি। এখন আর চিকিৎসার খরচ চালানোর সামর্থ্য নেই। সবাই যদি একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে হয়তো আমার স্বামীকে বাঁচানো সম্ভব হবে। চিকিৎসক বলেছেন, সঠিক চিকিৎসা পেলে তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন।

চোখে বাঁচার আকুতি নিয়ে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চট্টগ্রামে চাকরি করে কোনোমতে সংসার চলছিল। ক্যানসার ধরা পড়ায় সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেছে। আমার ছোট ছোট দুটি সন্তান আছে। ওদের মুখের দিকে তাকিয়ে আমি বাঁচতে চাই। চিকিৎসার ব্যয় বহন করার সামর্থ্য আমার নেই। এখন উপরে আল্লাহ আর নিচে দেশের হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতাই আমার একমাত্র ভরসা।

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শেখ হাসিবুর রেজা জানান, র‍্যাবডোমায়োসারকোমা একটি বিরল নরম টিস্যুর ক্যানসার, যা সাধারণত কঙ্কালের পেশি বা স্বেচ্ছানিয়ন্ত্রিত পেশির কোষে সৃষ্টি হয়। এটি শিশু-কিশোরদের মধ্যে বেশি দেখা গেলেও প্রাপ্তবয়স্কদেরও হতে পারে। রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি এবং রেডিয়েশন থেরাপির সমন্বয়ে সফল চিকিৎসার সম্ভাবনা থাকে। তবে এ ধরনের চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি এবং ব্যয়বহুল।

চিকিৎসকের বরাত দিয়ে পরিবারের সদস্যরা জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত উন্নত চিকিৎসা শুরু করা প্রয়োজন। কিন্তু অর্থের অভাবে জাহাঙ্গীর আলমের চিকিৎসা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তাই সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের কাছে জাহাঙ্গীরের জীবন বাঁচাতে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন তারা।

সহায়তা পাঠানোর ঠিকানা: হিসাবের নাম: মো. জাহাঙ্গীর আলম। ব্যাংক: সোনালী ব্যাংক, ব্রাহ্মণপাড়া শাখা, কুমিল্লা। হিসাব নম্বর: ১৩০৪৫০১০৩৮১৬৭ অথবা বিকাশ ( ব্যাক্তিগত ) ০১৯৯৬৪২৪০১৪।

আরো পড়ুন
error: Content is protected !!