চৌদ্দগ্রাম যুবলীগের কমিটি ঘিরে তোলপাড়; তৃণমূলের ক্ষোভ, পদত্যাগের হিড়িক

স্টাফ রিপোর্টার।।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা যুবলীগের নবগঠিত কমিটি ঘিরে তীব্র অসন্তোষ ও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। কমিটিতে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। কমিটি ঘোষণার পর ইতোমধ্যে একাধিক পদধারী নেতার পদত্যাগের ঘটনায় সংগঠনের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা আরও বেড়েছে।

বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং প্রতিকূল সময়ে দলের পাশে থাকা নেতাদের উপেক্ষা করে গুরুত্বপূর্ণ পদে বিতর্কিত ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া হয়েছে। এমনকি অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য ব্যক্তিদের পদ দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

Post Inside

কমিটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কয়েকজন নেতার প্রবাসে অবস্থান নিয়ে। বিক্ষুব্ধদের দাবি, স্থানীয় রাজনীতিতে নিয়মিত সক্রিয় নন এমন ব্যক্তিদের নেতৃত্বে বসানো হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ, সাংগঠনিক সভা, কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং সংকটকালীন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনে প্রবাসী নেতৃত্ব কতটা কার্যকর হবে?

পদত্যাগী নেতাদের ভাষ্য, রাজনীতি শুধু পদ-পদবির বিষয় নয়; এর সঙ্গে মাঠের মানুষের সম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক দায়িত্ববোধ এবং প্রতিকূল সময়ে কর্মীদের পাশে থাকার বিষয়টি জড়িত। তাঁদের মতে, স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য, সাংগঠনিকভাবে দক্ষ এবং কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে—এমন নেতাদের নেতৃত্বে আনা প্রয়োজন ছিল।

এদিকে, কমিটি ঘোষণার প্রতিবাদ জানিয়ে ইতোমধ্যে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোতাহার হোসেন ঝুমন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ফরাশ উদ্দিন রিপন এবং সহ-সম্পাদক নূরুদ্দিন রাজিবসহ কয়েকজন। তাঁদের পদত্যাগকে ব্যক্তিগত অভিমান নয়, বরং নেতৃত্ব নির্বাচন ও সাংগঠনিক মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে তৃণমূলের অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর মামলা, হামলা ও নির্যাতনের শিকার হওয়া নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের দাবি সামনে এসেছে। বিক্ষুব্ধদের বক্তব্য, প্রতিকূল সময়ে যারা নানা ঝুঁকি নিয়ে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের বাদ দিয়ে বিতর্কিত ব্যক্তিদের নেতৃত্বে বসানো হলে কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।

কমিটি গঠনে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের দাবি, অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য কিংবা কমিটি প্রণয়নের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের সত্যতা এবং পদ বণ্টনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

এ অবস্থায় বিতর্কিত কমিটি পুনর্বিবেচনা করে তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা এবং অতীত কর্মকাণ্ড যাচাইয়ের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন পদত্যাগী ও বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে কমিটি গঠনে কোনো ধরনের আর্থিক অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্তের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, উপজেলা পর্যায়ের রাজনৈতিক সংগঠনে স্থানীয় নেতৃত্বের উপস্থিতি, কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং সাংগঠনিক দায়বদ্ধতা গুরুত্বপূর্ণ। নেতৃত্বের সঙ্গে তৃণমূলের দূরত্ব তৈরি হলে সাংগঠনিক কার্যক্রমেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা যুবলীগের নবগঠিত কমিটি ঘিরে নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা, পদ বণ্টনের স্বচ্ছতা এবং তৃণমূলের মূল্যায়ন নিয়ে বিতর্ক চলছে। পদত্যাগের ঘটনা ও অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়। বিক্ষুব্ধদের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করে গ্রহণযোগ্য সমাধান নিশ্চিত করা হোক।

আরো পড়ুন
error: Content is protected !!