
স্টাফ রিপোর্টার।।
কুমিল্লার দেবিদ্বারে আত্মহত্যায় বাধা দেওয়ায় মা ও ৮ মাস বয়সী ভাতিজিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ইমন (২৪) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় তাকে থামাতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন তার ভাবী রাবেয়া আক্তার। এ ঘটনায় ইমনকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার সকালে উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—মৃত ফরিদ মিয়ার স্ত্রী পেয়ারা বেগম (৬০) এবং তার ছেলে সুজনের ৮ মাস বয়সী মেয়ে ইশরাত। আহত রাবেয়া আক্তার ইমনের ভাবী ও শিশু ইশরাতের মা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে ইমন আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় তার মা পেয়ারা বেগম ও ভাবী রাবেয়া আক্তার তাকে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইমন দা দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে মা পেয়ারা বেগমকে কুপিয়ে হত্যা এবং ৮ মাস বয়সী ভাতিজি ইশরাতকে ছুড়ে ফেলে হত্যা করার অভিযোগ ওঠে। তাকে বাধা দিতে গিয়ে গুরুতর আহত হন রাবেয়া আক্তার।
আহত রাবেয়া আক্তারকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আটক ইমনের বরাত দিয়ে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ইমন আত্মহত্যা করতে চেয়েছিল। তাকে বাধা দেওয়ায় সে তার মা ও ভাবীকে আঘাত করে। ভাতিজিকে ছুড়ে ফেলে দেয়।’
ওসি বলেন, ঘটনাস্থলেই ইমনের মা ও ভাতিজির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার ভাবী রাবেয়া আক্তার গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
এলাকাবাসী জানান, ইমন দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। সম্প্রতি একটি দুর্ঘটনায় তার পা ভেঙে যায়। সোমবার সকালে পায়ে তীব্র ব্যথা অনুভূত হলে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে স্থানীয়দের দাবি। এ সময় মা ও ভাবী তাকে বাধা দিলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ওপর হামলা চালান।
ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। ইমনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে কুমিল্লা থেকে সিআইডির একটি দল এসে আলামত সংগ্রহ করেছে। সুরতহাল শেষে মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।