একটি বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে একজন প্রধান শিক্ষকের ভূমিকাঃ

#একজন_সফল_প্রধান_শিক্ষকের_ভূমিকা।

অনেক বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক ও সরকারি অন্যান্য সুযোগ সুবিধা থাকা সত্বেও বিদ্যালয়ের পড়ালেখার মান সন্তোষজনক হয়না। আবার অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের আন্তরিকতার ঘাটতি দেখা যায়। এই সমস্যা প্রায় বেশির ভাগ বিদ্যালয়ে পরিলক্ষিত হয়। যার প্রভাব গুলো পড়ে কোমলমতি শিশুদের উপর। এই সমস্যা নিরসন করতে একজন প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা কি হতে পারে তা নিয়ে আমি আমার মতামত প্রকাশ করার চেষ্টা করছি…

#১ প্রধান ও সহকারী শিক্ষকের মাঝখানে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন ছাড়া অন্য কোন তফাৎ রাখা যাবে না। কারণ সবাই সবার সহকর্মী। বিদ্যালয় একটি পরিবার, আর আমরা সবাই এই পরিবারের সদস্য, এই মানসিকতা ধারণ করতে হবে।

#২ ছোটখাটো বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি না করাই শ্রেয়। ছোটখাটো বিষয় মাথা না ঘামিয়ে এড়িয়ে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। এতে সম্পর্ক ভালো থাকে। যদি একান্তই বলতে হয়, যার বিষয় তাকে আলাদা করে বুঝিয়ে বলুন।

#৩ সহকর্মীদের সঙ্গে ধমকের স্বরে কথা না বলে স্বাভাবিকভাবে কথা বলুন। যেকোনো সমস্যা যতোটা সম্ভব সহজ করে সমাধান করার চেষ্টা করতে হবে। ঘুরানো – প্যাঁচানো বিষয় কখনোই সুফল বয়ে আনতে পারে না।

#৪ অফিসিয়াল কার্যক্রম গুলো সকলের সাথে আলোচনা করে সম্পন্ন করুন এবং সকলের মতামতকে গুরুত্ব দিন। এতে সবাই নিজেকে মূল্যবান মনে করবে। ফলে কাজ করতে উৎসাহিত হবে। যেকোনো বিষয় সকলে মিলে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিন।

#৫ সহকর্মীদের কাজের খুঁত না ধরে প্রসংশা করার চেষ্টা করুন, তাহলে সে কাজে উৎসাহ পাবে। মানসিক ভাবে প্রফুল্ল থাকবে। নিজে নিজে কাজে উদ্বুদ্ধ হবে। সকলের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন। মনে রাখবেন -” সুসম্পর্কই সফলতার মূল শক্তি “।

#৬ সহকর্মীদের ভালো কাজের স্বীকৃতি দিন। আর মন্দ কাজের জন্য তাকে বুঝিয়ে নিজের মতো করে কাজ করতে উৎসাহিত করুন। কোন ভুল থাকলে তাকে আলাদা করে তার ভুলগুলো ধরিয়ে দিন। তাকে শোধরাবার জন্য সহযোগিতা করুন।

#৭ সহকর্মীদের মানসিক চাপমুক্ত রাখতে চেষ্টা করুন। মানসিক চাপে থাকলে আপনিও কখনোই কাজ আদায় করতে পারবেন না। আপনি যতোটা মানসিক চাপে রাখবেন ঠিক ততোটাই দায়সারাভাবে দায়িত্ব পালন করবে। তাই সবসময় হাসিমুখে কথা বলার চেষ্টা করুন।

#৮ আপনার সহকর্মীদের ধমক কিংবা আদেশের সুরে কাজ করতে বলবেন না, তাদের অনুরোধ করে বলুন। সেই সাথে তাদের নিজ নিজ কাজ গুলো বন্টন করে দিন। দিন শেষে দেখবেন প্রতিটি কাজই সুন্দর ভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।

#৯ মাঝে মাঝে একটু রিক্রিয়েশন করার ব্যবস্থা করুন। সবসময় একই কাজ, একই ধারায় শ্রেণির পাঠদান একঘেয়েমি আসতে পারে। তাই সপ্তাহের একদিন বিনোদন মূলক ক্লাস নেয়ার ব্যবস্থা রাখুন। এতে শিক্ষক শিক্ষার্থী উভয়ই আনন্দ পাবে।

#১০ আপনার সহকর্মীদের মধ্য থেকে সেরা শিক্ষক নির্বাচন করুন এবং তাঁকে পুরস্কৃত করুন। এতে অন্য শিক্ষক গণও কাজে আগ্রহী হবেন। যিনি স্বীকৃতি পাবেন তিনিও তার কাজের গতি আরও বাড়ানোর চেষ্টা করবেন।

#১১ বিদ্যালয়ের সব উপকরণ কেনার পাশাপাশি আপনার সহকর্মীদের জন্য ও একটা গিফট এর ব্যবস্থা রাখুন। সেটা দামী হোক কিংবা কমদামি। সহকর্মীদের পাঠদান কিংবা কাজের উপকরণ সমূহ যতোটা সম্ভব তাড়াতাড়ি সরবরাহ করার চেষ্টা করুন।

#১২ সহকর্মীদের মাঝে মাঝে কিছু আপ্যায়নের ব্যবস্থা রাখুন, সম্ভব হলে প্রতিদিন হালকা কিছু আপ্যায়ন ব্যবস্থা রাখুন (এক কাপ চা, বিস্কুট) । যদি আপনার ব্যয় সংকুলান না করতে পারেন, প্রয়োজন হলে সকলের সহযোগিতা নিয়ে ফান্ড তৈরি করুন।
এতে সহকর্মীরা ক্লান্ত হয়ে পড়বেনা। ফলে তাদের মধ্যে কাজের স্পৃহা বাড়বে।

সবকিছু মিলেই আপনার বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ভালো মানেই আপনি একজন সফল প্রধান শিক্ষক।

এটা সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত মতামত।

ধন্যবাদ।

লিখেছেন

মোসাঃ কামরূন নাহার
সহকারী শিক্ষক
একবালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সদর দক্ষিন, কুমিল্লা।।

     আরো দেখুন:

পুরাতন খবর

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  

You cannot copy content of this page