
কুবি প্রতিনিধি।।
শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন, ইন্টার্নশিপ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ‘রাউন্ডটেবিল অন ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া কোলাবোরেশন ইনিশিয়েটিভস’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ৪২টি শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রসারিত ক্যাম্পাসের উপাচার্য বাসভবনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি অংশ নেন।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত ছয় প্রতিষ্ঠান হলো—স্মার্ট সলিউশন, ড্যাপকো ভেঞ্চারস লিমিটেড, ফ্লোরিনা কসমেটিকস, সুপ্রিম ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, উইডেভস লিমিটেড এবং বাংলাদেশ স্মল অ্যান্ড কটেজ ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিক)।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করিম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, দেশে ও বিদেশে এক কোটি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তরুণদের দক্ষ করে তোলার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি।
তিনি বলেন, ‘শুধু একাডেমিক জ্ঞানসম্পন্ন গ্র্যাজুয়েট তৈরি করলেই হবে না, তাঁদের কর্মক্ষেত্রের উপযোগী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দিতে হবে। শিল্পখাতের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ ও চাকরির সুযোগ তৈরিতে ইউজিসি কাজ করছে।’
তিনি আরও বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে কর্মসংস্থানের লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শিক্ষা ও সফট স্কিলস প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ইন্টার্নশিপ এবং ক্যারিয়ার সেন্টারের কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়জীবন থেকেই শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হলে শিক্ষার্থীরা কর্মক্ষেত্রের চাহিদা বুঝে নিজেদের প্রস্তুত করতে পারবেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে উদ্যোক্তা হিসেবেও গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্ভাবন তহবিল ও স্টার্টআপ সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে ইউজিসির এই সদস্য বলেন, এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের সঙ্গে শিল্প ও অর্থনীতির সংযোগ আরও জোরদার হবে।
সরকারের কর্মসংস্থান পরিকল্পনায় তথ্যপ্রযুক্তি, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে স্টার্টআপ, নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে ৮০০ কোটি টাকার কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করিম বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন পড়াশোনা শেষ করার পরপরই চাকরির সুযোগ পান, সেই লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ৪২টি কোম্পানির সিইও, ডিরেক্টর ও ম্যানেজারদের নিয়ে এসেছি, যেন তাঁরা তাঁদের ভাবনা ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারেন। তাঁদের সঙ্গে কোলাবোরেশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেন প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারে, সেটিই ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই বলেছি, স্টুডেন্ট ফার্স্ট নীতিতে আমাদের প্রশাসন চলবে। আজ ছয়টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। এটি শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ারে ভালো করার ক্ষেত্রে সহায়তা করবে বলে আমরা আশা করি।’
অনুষ্ঠানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।