
নেকবর হোসেন।।
কুমিল্লায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। শুক্রবার রাতে জেলা ডিবি ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে তিতাস উপজেলা ও দাউদকান্দি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার, ২টি সিএনজি ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শামসুল আলম শাহ।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৩টার দিকে তিতাস উপজেলার উজিরাকান্দি গ্রামে এমদাদুল হকের কন্যা নাছরিন আক্তার (৩৫)-এর বসতঘরের গেটের তালা ভেঙে ডাকাত দল প্রবেশ করে। এ সময় তাকে হাত-পা বেঁধে মারধর ও প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়।
একই রাতে তিতাস উপজেলার কাকিয়াখালী গ্রামে মৃত মোমতাজ মিয়ার কন্যা মঞ্জুরা বেগমের বাড়িতেও একই কায়দায় দরজা ভেঙে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল ডাকাতি করা হয়।
ঘটনার পর পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। আসিফুজ্জামান, পিপিএম, পুলিশ সুপারের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ও সহকারী পুলিশ সুপার (দেবিদ্বার সার্কেল)-এর নেতৃত্বে জেলা ডিবি এবং দাউদকান্দি মডেল থানা ও দাউদকান্দি থানার যৌথ টিম গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তিতাস ও দাউদকান্দির বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন: মো. জীবন মিয়া (৪৫), মো. দেলোয়ার হোসেন (৪৫), মো. আনোয়ার হোসেন (৪৫), মো. নাসির (৩৬), আবু তাহের (২২), মো. জামাল হক কুদ্দুস (৪০), মো. ওবাইদুল (৩৫), মো. হানিফ (২৯), মো. সৌরভ হোসেন (২২), মো. জহির (৪৮), মো. মকবুল হোসেন (৩৭) ও মো. কামাল (৩২)।
উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে ১টি স্বর্ণের চেইন, ৩টি স্বর্ণের কানের দুল, ১ জোড়া রুপার নূপুর, ১টি রুপার ব্রেসলেট, ১টি রুপার চেইন, ১টি ডিজিটাল ক্যামেরা, ২টি কষ্টি পাথর, ১টি টর্চ লাইট, ১টি ব্লেন্ডার মেশিন, ২টি কাঠের বাটযুক্ত ছুরি, ২টি ২৪ ইঞ্চি কাটার, ১টি ৩২ ইঞ্চি লোহার শাবল, ১টি ২৬ ইঞ্চি লোহার রড, ৫টি সিটিগোল্ডের চুড়ি, ১টি সিটিগোল্ডের ব্রেসলেট, ১২টি বিভিন্ন রঙের হাফ প্যান্ট ও মুখোশ, ১টি ট্রাভেল ব্যাগ, ২টি এভারফ্রেশ ব্র্যান্ডের প্যাকেট (অর্ধ কেজি করে), ১টি ফার্মলেফ ব্র্যান্ডের দুধের প্যাকেট, ১৩টি মোবাইল ফোন, ২টি সিএনজি এবং নগদ ৩৭ হাজার ২৪৭ টাকা।
ওসি মো. শামসুল আলম শাহ জানান, দুইটি পৃথক ডাকাতির ঘটনায় জড়িত আন্তঃজেলা চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।