স্টাফ রিপোর্টার।।
গুলি ভর্তি বিদেশি পিস্তলসহ কুমিল্লা আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এজিপি) এম মাসুদুল হক এবং তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুইটি ম্যাগাজিন ও ১০টি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে তাদের অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন ইপিজেড পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, আজ বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর টমছমব্রিজ এলাকা থেকে প্রথমে আরিফুল ইসলাম (৩৬) নামের এক যুবককে পাঁচটি গুলি, একটি ছুরিসহ আটক করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যে কুমিল্লা আদালতের এজিপি এম মাসুদুল হক ওরফে মাসুমের (৫১) বাসা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সূত্র বলছে, মাসুদুল হক জামায়াতপন্থি আইনজীবী হিসেবে পরিচিত। তিনি কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ কে এম এমদাদুল হকের ছোট ভাই। উভয়ের বাড়ি সদর উপজেলার ধর্মপুর এলাকায়।
রাতে কুমিল্লা আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) কাইমুল হক বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে তিনি বিষয়টি জেনেছেন। থানা থেকে মামলার নথিপত্র পেলে সরকারি কৌঁসুলির (জিপি) সঙ্গে মিলে এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে লিখবেন। এরপর মন্ত্রণালয় তার এজিপি দায়িত্বের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ কে এম এমদাদুল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভি করেননি। এছাড়াও দলের দায়িত্বশীল কেউ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ইপিজেড পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম জানান, প্রথমে আরিফুলকে পাঁচটি গুলি, একটি ছুরিসহ আটক করার পরই তাঁর মুঠোফোন তল্লাশি করে অস্ত্রের ছবি পাওয়া যায়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে জানান, মাসুদুল হকের বাসায় আছে অস্ত্রটি। তাঁর দেওয়া তথ্যে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে মাসুদুল হকের বাসা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও পাঁচটি গুলি উদ্ধার করা হয়। ওই দুজনের বিরুদ্ধে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করার পর বিকালে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেছে।