কুমিল্লা এলিট প্যালেস থেকে অনলাইন জুয়া চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার, জব্দ ৬৬০০ সিম

স্টাফ রিপোর্টার।।
কুমিল্লা নগরীর এলিট প্যালেস হোটেলে অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়া পরিচালনাকারী সংঘবদ্ধ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। কুমিল্লা জেলা ডিবির সহায়তায় পরিচালিত এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অনলাইন জুয়ার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গাজীপুর ও কুমিল্লায় পৃথক অভিযানে মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৬ হাজার ৬০০টি এমএফএস (বিকাশ/নগদ) অ্যাকাউন্টসংবলিত সিমকার্ড, ৬৭টি বিভিন্ন অপারেটরের সিম, একটি ল্যাপটপ, ৭০টির বেশি মোবাইল ডিভাইস এবং একটি মাইক্রোবাস।

Post Inside

এছাড়াও গাজীপুরের টঙ্গীর একটি রিসোর্টে অভিযান পরিচালনা করে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন— আরিফুল ইসলাম রিফাত (২৩), মো. আরমান হোসেন জিহাদ (২৩), মাসুদ হোসেন (২২), আব্দুল রাব্বী (২৩), কৌশিক আহমেদ শুভ (২৩) ও মশিউর রহমান তারেক (২০)।

ডিবি জানায়, সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ অনলাইন জুয়ার একাধিক ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ শনাক্ত করে। তদন্তে দেখা যায়, এসব প্ল্যাটফর্মে বিকাশ, নগদসহ বিভিন্ন এমএফএস এজেন্ট ও মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে লেনদেন পরিচালিত হচ্ছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে গাজীপুরের টঙ্গীর একটি রিসোর্ট থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলা ডিবির সহযোগিতায় কুমিল্লা সদরের এলিট প্যালেস হোটেলে অভিযান চালিয়ে বাকি তিনজনকে আটক করা হয়। অভিযানে দেখা যায়, চক্রটি এমএফএস অ্যাকাউন্টের তথ্য বড় রেজিস্টার বইয়ে সংরক্ষণ করে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, বাংলাদেশে পরিচালিত অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইটে প্রতিদিন এমএফএসের মাধ্যমে ৭০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়, যা বিভিন্ন কৌশলে বিদেশে পাচার করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার হওয়া চক্রের মূলহোতা আরিফুল ইসলাম রিফাত প্রতিদিন প্রায় ৫ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করতেন বলেও প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

তিনি জানান, জুয়ার সাইট পরিচালনায় পে কাশমা, গো পে, লাকি পে, এলকিউ পে, এক্স-ই পে ও কুল পে-সহ বিভিন্ন পেমেন্ট কোম্পানি ব্যবহৃত হতো। এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই চীনা নাগরিকদের নিয়ন্ত্রণে। এমএফএস অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া অর্থ পরে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম—বাইন্যান্স, বাইবিট ও বিটগেটের মাধ্যমে ইউএসডিটিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাঠানো হতো।

ডিবির দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া আরিফের বিরুদ্ধে আগে থেকেই চারটি মামলা রয়েছে। তিনি অবৈধ অর্থে বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে নিয়মিত হোটেল পরিবর্তন করতেন। গ্রেপ্তারের সময়ও তিনি একসঙ্গে তিনটি কক্ষ ভাড়া নিয়েছিলেন, যার একটি কক্ষের দৈনিক ভাড়া ছিল ৫০ হাজার টাকা।

ডিবি আরও জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে এই চক্রের মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে নাতান নামে এক চীনা নাগরিকের তথ্য পাওয়া গেছে। অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত পুরো নেটওয়ার্ক ও অর্থ পাচারের রুট উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আরো পড়ুন
error: Content is protected !!