কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) বিএনপির প্রত্যাবর্তনের লড়াই

স্টাফ রিপোর্টার।।
দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলা নিয়ে গঠিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ঘেঁষা কুমিল্লা-১ আসন।

Post Inside

১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন নিরঙ্কুশ আধিপত্য বজায় রাখেন। পরে রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে দীর্ঘ সময় আসনটি হাতছাড়া হয়। ৫ অগাস্ট পরবর্তী দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপি মাঠে প্রভাব তৈরি করে।

এবারও প্রবীণ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রার্থী হয়েছেন। এখানে ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমিয়ে তুলেছে জামায়াতে ইসলামী। দলের উত্তর জেলা কমিটির কর্মপরিষদ সদস্য ও দাউদকান্দি উপজেলা আমির মনিরুজ্জামানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

ভোটারদের ধারণা, এই আসনে ব্যক্তি পছন্দ, দলীয় প্রতীক এবং এলাকাভিত্তিক জনপ্রিয়তা- সবকিছুই নির্বাচনে প্রাধান্য পাবে।

নিরাপদ সড়ক চাই, দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সভাপতি লিটন সরকার বাদল বলেন, “দাউদকান্দি ও মেঘনা দুই উপজেলা নিয়ে একটি আসন হলেও- এই দুই উপজেলার মাঝে কোনো সরাসরি সড়ক যোগাযোগ নেই। দুই উপজেলারই ভোটারদের প্রত্যাশা এই আসনে সড়ক ব্যবস্থাপনার আমূল পরিবর্তন হোক। তারা ওই বিষয়টি মাথায় রেখেই এবার ভোট দেবে।”

স্থানীয় ভোটার ও সংবাদকর্মী মো. সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘বিএনপির খন্দকার মোশাররফ, জামায়াতের মনিরুজ্জামান বাহালুল এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে মাওলানা বশির আহমেদ-তিনজনের বাড়িই দাউদকান্দি উপজেলায়। সুতরাং আসনের অপর উপজেলা মেঘনার ভোটারদের টানতে তাদের অতিরিক্ত সময় ও চেষ্টা থাকতে হবে। এমনও হতে পারে মেঘনার ভোট এই আসনে ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে।”

বিএনপির প্রার্থী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “এ আসনের জনগণ দীর্ঘদিন ভোটবিহীন জনপ্রতিনিধি পেয়েছিল। জনগণ এবার নিজের হাতে প্রকৃত জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে চায়। তারা ধানের শীষেই ভোট দেবে। আগামী সরকার হবে জনগণের সরকার।”

জামায়াতের প্রার্থী মনিরুজ্জামান বলেন, “আমরা কাজ করছি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য। মানুষও আমাদের দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রতি ব্যাপক সাড়া দিচ্ছে। মেঘনাতেও আমাদের কার্যক্রম সমানভাবে চলছে। আশা করি আমরা বিজয়ী হব।”

এই আসনে মোট ভোটার চার লাখ ৩০ হাজার ১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১৭ হাজার ৩৮৯, নারী ২ লাখ ১২ হাজার ৬২৮। মোট ভোটকেন্দ্র ১৪৫টির মধ্যে ৯৪টি প্রাথমিকভাবে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ঘোষণা হয়েছে।

এখানে ভোটের মাঠে আরও রয়েছেন খেলাফত মজলিসের সৈয়দ আব্দুল কাদের (জামাল), বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মো. আবুল কালাম।

আরো পড়ুন
error: Content is protected !!