স্টাফ রিপোর্টার।।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে থাকা র্যাব সদস্যদের ওপর সন্ত্রাসী হামলায় নিহত র্যাব কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন ভূঁইয়ার মরদেহ কুমিল্লায় আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। চট্টগ্রামে জানাজা শেষে মরদেহ কুমিল্লার সদর উপজেলার কালিরবাজার ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামে নেওয়া হয়। আজ মঙ্গলবার রাতেই পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

নিহতের বড় ভাই মনির হোসেন জানান, সকালে নিহতের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মরদেহ গ্রহণ করেন। পরে র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে চট্টগ্রামে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে মরদেহ সড়কপথে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেওয়া হয়।
মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া কুমিল্লা সদর উপজেলার কালিরবাজার ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামের প্রয়াত আবদুল খালেক ভূঁইয়ার ছেলে। আট ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। তিনি এক ছেলে ও দুই মেয়ের জনক। রাজধানীর পিলখানা এলাকায় তাঁর পরিবার বসবাস করতেন।
মনির হোসেন আরও জানান, গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের জন্য আগেই কবর খননের কাজ শেষ করা হয়েছিল। মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে স্বজন, প্রতিবেশী ও সহকর্মীদের কান্নায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এদিকে মোতালেবের মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছানোর পর থেকেই পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। র্যাবের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
র্যাব-১১ সিপিসি-২ কুমিল্লার অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম জানান, চট্টগ্রামে জানাজা শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আজ রাতেই দাফন সম্পন্ন হবে।
উল্লেখ্য, সোমবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জঙ্গল সলিমপুরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে অভিযানে থাকা র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়। র্যাবের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, হামলায় অন্তত ৪০০ থেকে ৫০০ জন অংশ নেয়। এ ঘটনায় র্যাব কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন এবং আরও তিনজন র্যাব সদস্য আহত হন। হামলায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে র্যাব সদস্যরা কাজ করছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।