নারী সহিংসতা বন্ধে,নারীর আইন জানাতে প্রান্তীক নারীদের পাশে ‘অনুকুল ‘

ইলিয়াছ হোসাইন।।
তরুণদের দ্বারা পরিচালিত পারিবারিক সহিংসতার বিরুদ্ধে কাজ করা সংগঠন ANUKUL (অনুকূল)-এর উদ্যোগে কুমিল্লার বরুড়ায় “পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও প্রতিকার: অধিকার ও ন্যায়বিচারের পথ” শীর্ষক একটি সচেতনতামূলক সেশন অনুষ্ঠিত হয়। বরুড়া মেডিকেয়ার জেনারেল হসপিটালের সৌজন্যে নারীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ঔষধ দেওয়া হয়।

আলোচনায় পারিবারিক জীবনে পারস্পরিক সম্মান, সহমর্মিতা ও সহাবস্থান নিশ্চিত,নারীদের আইন বিষয়ে অবহিত করা।পাশাপাশি আইন অনুযায়ী পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব ও কর্তব্য, প্রয়োগকারী কর্মকর্তার দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং চিকিৎসাসেবা প্রদানকারীর দায়িত্ব সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়।একইসঙ্গে পারিবারিক সহিংসতার শিকার নারীদের নীরব না থেকে প্রশাসনের সহায়তা গ্রহণ এবং যথাযথ আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য উৎসাহিত করা হয়।

Post Inside

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অনুকুল-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরুড়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার আসাদুজ্জামান রনি।বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন কুমিল্লা বার্ডের যুগ্ম পরিচালক মিস শারমিন শাহরিয়া, বার্ডের উপপরিচালক, মিস রাখী নন্দী এবং বরুড়া উপজেলার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আফরোজা বেগম।

এছাড়াও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. আব্দুল হালিম বাবুল, মো. আব্দুর, বরুড়া দলিল লেখক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. তারিকুল ইসলাম সোহান,কাজী মো. আলাউদ্দীন, মাহাবুবুর রহমান আবির এবং মো. ফরহাদ হোসেন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন,গ্রামের নারীরা আইন ও তাদের অধিকার সম্পর্কে অজ্ঞ। পারিবারিক সহিয়সতায় নারীদের চুপ না থেকে প্রয়োজনীয় ও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। নারী অধিকার,নারী আইন সম্পর্কে জানা উচিত।এর সাথে নারীদের পিতা-মাতার ভরণ-পোষণের প্রতিও সচেতন থাকা জরুরী। এছাড়াও বক্তারা বলেন,নারীদের গ্রাম আদালতের সুবিধা গ্রহণ, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে স্বল্প খরচে দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ সম্পর্কে জানা এবং পুরুষের পাশাপাশি নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও স্বাবলম্বিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং BARD-এর আওতাধীন বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করারও আহ্বান জানান বক্তারা।

‘অনুকূল’ র প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও উপজেলা প্রশাসনের মধ্যে যোগাযোগ ও দূরত্বের যে ব্যবধান রয়েছে, তা কমে আসবে। এর ফলে পারিবারিক সহিংসতার শিকার নারীরা প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা ও সেবা সম্পর্কে আরও সহজে জানতে পারবেন এবং তাদের ভোগান্তি কমবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরো পড়ুন
error: Content is protected !!