
আতাউর রহমান।।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় ডেঙ্গুরোগীর চিকিৎসা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক সচেতনতামূলক সভা ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ( ১৮ জুন ) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শেখ হাসিবুর রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও ) মাহমুদা জাহান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার ( ভূমি ) তারেক রহমান, ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি ) মো. ফারুক হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আমির হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, ব্রাহ্মণপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সৈয়দ আহাম্মদ লাভলু।

এ সময় সভায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু কনসালটেন্ট ডা. ইসরাত জাহান, মেডিসিন কনসালটেন্ট ডা. রাশেদ চৌধুরী, ইএনটি কনসালটেন্ট ডা. আকিব জাভেদ, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মনিরুল ইসলাম, মেডিকেল অফিসার ডা. তোফায়েল আহমেদ ভূইয়া, ডা. শঙ্খজিৎ সমাজপতি, ডা. ফাহমিদা ইসলাম, ডা. উম্মে সালমা মৌ, ডা. শর্মিষ্ঠা দাস, ডা. অরূপ সিংহ, ডা. আসিফ মোহাম্মদ তকি, ডা. মোহাম্মদ সোহেল রানা ( ইউনানি ), দন্ত চিকিৎসক ডা. ইমরান হাসান সৈকত, ডা. নাঈম আব্দুল্লাহ, ডা. নাজমুস সাকিব, দন্ত চিকিৎসক ডা. মেহনাজ ফাতেমা, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর পারভীন সুলতানা, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. আবুল কালাম আজাদ, সিনিয়র স্টাফ নার্স রোকসানা আক্তার, সিনিয়র স্টাফ নার্স কোহিনূর আক্তারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এতে অংশগ্রহণ করেন।
সভায় বক্তারা বলেন, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং নিজ নিজ বাসাবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
বিশেষ করে ঘরের ভেতর ও বাইরে জমে থাকা পরিষ্কার পানি নিয়মিত অপসারণ করতে হবে, ফুলের টব, অব্যবহৃত টায়ার, ডাব বা নারকেলের খোসা, ভাঙা পাত্র, ড্রাম ও পানির ট্যাংকে যাতে পানি জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তি সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শেখ হাসিবুর রেজা বলেন, ডেঙ্গু একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে পারলে অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব। জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও গিঁটে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও ) মাহমুদা জাহান বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। সাধারণ মানুষকেও এ বিষয়ে সচেতন করে তুলতে হবে। নিজেদের বাড়িঘর ও আশপাশ পরিস্কার রাখার মাধ্যমে আমরা সহজেই এডিস মশার বিস্তার রোধ করতে পারি। সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং আপনার আশপাশের অন্যদেরও সচেতন করতে হবে। একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশেই পারে ডেঙ্গুমুক্ত ব্রাহ্মণপাড়া গড়ে তুলতে।
সভা শেষে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়কে সচেতনতামূলক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করার বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।