স্টাফ রিপোর্টার।।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও জেলা রিটার্নিং কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। প্রতিদিনই মনোনয়ন সংগ্রহ, জমা ও যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে অংশ নিতে আসছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা।
মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান প্রার্থীদের জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে তা বৈধ বা অবৈধ ঘোষণা করছেন। তবে এ প্রক্রিয়ার মধ্যেই জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কার্যালয়ে প্রার্থীদের মাধ্যমে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, মনোনয়ন সংগ্রহ, জমা ও যাচাই-বাছাইয়ের সময় প্রায় সব প্রার্থীই পাঁচজনের বেশি সমর্থক নিয়ে কার্যালয়ে উপস্থিত হচ্ছেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী। এতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রার্থী, সমর্থক ও উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে কিনা—তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার সকালে মনোনয়ন পত্র যাচাই বাছাই চলছিলো। এ সময় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিপুল সংখ্যক উৎসুক জনতার ভিড়। অনেকের হাতেই মোবাইল ফোন—কেউ ভিডিও করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ সম্প্রচার করছেন। এই ভিড় সামলাতে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের হিমশিম খেতে দেখা যায়। বিকেলেও একই পরিস্থিতি ছিলো জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে।
কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনের জাসদের প্রার্থী ওবায়দুল করিম মোহন বলেন, “আমরা নির্বাচনী আচরণবিধি মেনেই জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসেছি। কিন্তু অন্য প্রার্থীদের সঙ্গে অতিরিক্ত লোকজন এসেছে, যা নিঃসন্দেহে আচরণবিধি লঙ্ঘন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা রিটার্নিং কার্যালয়ে আসা এক প্রার্থীর সমর্থক জানান, “আগের নির্বাচনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখা যেত। মূল ফটক বন্ধসহ তিনস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকত। এবার তেমন চোখে পড়ছে না। যে কেউ কনফারেন্স কক্ষে ঢুকছে ও বের হচ্ছে। এতে প্রার্থীদের নিরাপত্তা ও নির্বাচনী আচরণবিধি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
নিরাপত্তা বিষয়ে কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, “জেলা প্রশাসন যে পরিমাণ পুলিশ ফোর্স চেয়েছে, তার চেয়েও বেশি মোতায়েন করা হয়েছে। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও দায়িত্ব পালন করছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি দেখার দায়িত্ব জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার।
নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রার্থী, তার প্রস্তাবক এবং সর্বোচ্চ নির্ধারিত সংখ্যক (সাধারণত পাঁচজন পর্যন্ত) সমর্থক মনোনয়নপত্র জমা দিতে যেতে পারেন। তবে বেশির ভাগ প্রার্থী আচরণ বিধি ভঙ্গ করে মনোনয়ন সংগ্রহ জমা এবং যাচাই বাছাইয়ে উপস্থিত হয়েছেন।
এ বিষয়ে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের সময় কিছু অতিরিক্ত লোক কনফারেন্স কক্ষে উপস্থিত ছিল, যা আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে আচরণবিধি লঙ্ঘন না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








