
স্টাফ রিপোর্টার।।
কুমিল্লা নগরের উত্তর চর্থায় ‘মা’ বাসভবনে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘মোস্তফা কামাল ফুলু স্মারক গোলাপ প্রদর্শনী’। শহরের ফুলপ্রেমী ও উদ্যানপ্রেমীদের মিলনমেলায় পরিণত হয় এ আয়োজন। প্রদর্শনীর আয়োজন করে মোস্তফা কামাল ফাউন্ডেশন।
সকাল থেকেই নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত অংশগ্রহণকারী ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে প্রদর্শনীর প্রাঙ্গণ। বেলা ১১টায় ফিতা কেটে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশিষ্ট কবি ও লেখক, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর ডিন প্রফেসর ড. আলী হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, ফুল মানুষের মনকে কোমল করে এবং সৌন্দর্যচর্চার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক চিন্তার প্রসার ঘটে। গোলাপ প্রদর্শনীর মতো আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে প্রকৃতি ও সৃজনশীলতার সঙ্গে যুক্ত করবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য দেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল জহির স্বপন। তিনি বলেন, “শহরের মানুষকে ফুলচর্চায় আগ্রহী করতে এবং নান্দনিক পরিবেশ গড়ে তুলতে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।”
এ সময় ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন টুটুল ও লালমাই সরকারি কলেজ-এর অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বক্তব্য রাখেন। এছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফাসহ স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রদর্শনীতে অর্ধশতাধিক গোলাপপ্রেমী অংশগ্রহণ করেন। তারা নিজেদের বাগানে লালিত নানা প্রজাতির গোলাপ নিয়ে আসেন। প্রদর্শনীতে প্যারাডাইস, এব্রাকাডেবরা, হোয়াইট অ্যাভালেঞ্চ, জুমেলিয়া, ব্ল্যাক ডিলাইট, কলকাতা ৩০০, ইরানি গোলাপ, এলিংকা এমন নানা জাতের গোলাপ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। প্রতিটি স্টলে ভিন্ন ভিন্ন রঙ, গঠন ও সুবাসের গোলাপ প্রদর্শিত হওয়ায় দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়।
অংশগ্রহণকারী তানজিশা মাহমুদ মীম বলেন, “ফেসবুকে এই প্রদর্শনীর খবর দেখে অংশগ্রহণ করতে এসেছি। এসে দেখলাম অসাধারণ সব গোলাপ। এমন আয়োজন সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।”
গৃহিণী সেলিনা বেগম বলেন, “নিজের বাগানের তিনটি গোলাপ নিয়ে এসেছি। এত সুন্দর পরিবেশে নিজের ফুল প্রদর্শন করতে পেরে ভালো লাগছে।”
অন্যদিকে ১৭ প্রজাতির গোলাপ নিয়ে আসা অনামিকা দেব বলেন, “আমি শুধু গোলাপ ভালোবাসি। তাই গোলাপের বাগান করেছি। এই প্রদর্শনী যেন আমার ভালোবাসারই একটি মঞ্চ।”
প্রদর্শনী ঘিরে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই ফুলের ছবি তুলতে ব্যস্ত সময় পার করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রতিটি স্টলের সামনে গোলাপের নাম ও বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়, যা দর্শনার্থীদের কাছে ছিল বাড়তি আকর্ষণ।
প্রদর্শনীর শেষে অংশগ্রহণকারী সবাইকে সনদ ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। প্রতিযোগিতামূলক অংশে প্রথম স্থান অধিকার করেন অনামিকা দেব; তিনি ১০ হাজার টাকা সম্মানী লাভ করেন। দ্বিতীয় হন ফারজানা চৌধুরী (৭ হাজার টাকা) এবং তৃতীয় হন সেলিনা বেগম (৫ হাজার টাকা)।
আয়োজক কমিটির সভাপতি বলেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে শহরে ফুলচর্চা ও নান্দনিক সংস্কৃতি বিকাশে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। তিনি আরও জানান, আগামী দিনগুলোতে এ প্রদর্শনী ধারাবাহিকভাবে আয়োজন করা হবে এবং নতুন প্রজন্মকে ফুলচর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হবে।
গোলাপের সুবাস আর রঙিন সৌন্দর্যে ভরা এই প্রদর্শনী কুমিল্লা নগরের সংস্কৃতি অঙ্গনে এক ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দর্শনার্থীদের মতে, এমন সৃজনশীল আয়োজন শহরের পরিবেশ ও মানুষের রুচিবোধ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।