কুমিল্লায় চর দখলকে কেন্দ্র করে দুই উপজেলার বাসিন্দাদের সংঘর্ষ, ভাঙচুর; আহত ৩৫

স্টাফ রিপোর্টার।।
কুমিল্লার মেঘনা ও তিতাস উপজেলার সীমান্তবর্তী চর বিনোদনপুর এলাকায় চরের জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুই উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৫ জুন) সকাল ১০টা থেকে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১০টি ঘরবাড়িতে ভাঙচুর এবং একটি মুদি দোকান থেকে নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৯০ সালে জেলা প্রশাসন মেঘনা উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের বাসিন্দাদের ১৪ দশমিক ৭৫ একর জমি লিজ দেয়। পরে ১৯৯৯ সালে তিতাস উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের নতুন বাটেরা এলাকার বাসিন্দাদের ১০ দশমিক ১৪ একর জমি লিজ দেওয়া হয়। এরপর থেকে নতুন বাটেরা এলাকার বাসিন্দারা জমিটি ভোগদখল করে আসছিলেন। সম্প্রতি আলীপুরের বাসিন্দারা জমির দখল নিতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

Post Inside

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষে উভয় পক্ষ টেঁটা, রামদা, চাপাতি, ভল্লম, হকিস্টিকসহ দেশীয় অস্ত্র এবং ইট-পাটকেল ব্যবহার করে। এতে অনেকের হাত, পা ও মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন ফারুক, আনোয়ার হোসেন, রাজ্জাক, বাছির, জাহাঙ্গীর আলম, রবি মোল্লা, সাগর, সালাউদ্দিন, শাহজাহান, সুলতান মিয়া, নাছির মিয়া ও কবির হোসেনসহ অন্তত ৩৫ জন। তাদের মেঘনা ও তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

নতুন বাটেরাচর গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, মেঘনা উপজেলার আলীপুর ও বিরনপুর এলাকা থেকে ট্রলারযোগে ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গ্রামে প্রবেশ করে হামলা চালায়। তারা স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্যের বাড়িসহ অন্তত ১০টি ঘরবাড়িতে ভাঙচুর চালায় এবং একটি মুদি দোকান থেকে প্রায় এক লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এছাড়া বিভিন্ন বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

অন্যদিকে, মেঘনা উপজেলার বাসিন্দাদের দাবি, বিরোধপূর্ণ জমির প্রকৃত লিজগ্রহীতা তারাই। জমির দখল নিতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়, যাতে তাদের পক্ষেরও বহু লোক আহত হন।

এলাকাবাসী জানান, বিরোধপূর্ণ জমিটি বাটেরা মৌজার অন্তর্ভুক্ত। সিএস ও এসএ রেকর্ডে আলীপুর গ্রামের কয়েকজনের নামে জমির মালিকানা থাকলেও বিএস রেকর্ডে জমিটি সরকারি খাসজমি হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে।

আহত সুলতান মিয়া, নাছির মিয়া ও কবির হোসেন বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষরা প্রায় একশ বছর ধরে এ চরভূমি ভোগদখল করে আসছেন। আইনের মাধ্যমে কেউ মালিকানা প্রমাণ করতে পারলে আমরা জমি ছেড়ে দেব। কিন্তু হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার পরপরই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”

তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিরুল হক বলেন, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে তিতাস থানা থেকে ২০ থেকে ২৫ সদস্যের একটি পুলিশ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আরো পড়ুন
error: Content is protected !!