কুমিল্লায় অবৈধ টোল (জিপি) আদায়ের প্রতিবাদে সিএনজি চালকদের সড়ক অবরোধ

স্টাফ রিপোর্টার।।
কুমিল্লার দেবীদ্বারে সিএনজি ও অটোরিকশা থেকে অতিরিক্ত পৌর টোল (জিপি) আদায়ের প্রতিবাদে চালকরা দুই ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করা হলেও দাবি আদায় না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলার বাগুর এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করেন সিএনজি চালকরা। এতে সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

Post Inside

খবর পেয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি জানান, রোববার (২ আগস্ট) পৌর প্রশাসকের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বৈঠকের আগে কোনো ধরনের টোল (জিপি) আদায় না করার জন্য ইজারাদারদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সিএনজি চালক, যাত্রী ও পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অতিরিক্ত টোল আদায় ও চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠায় তৎকালীন সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম আজাদ সিএনজি স্ট্যান্ড ইজারা ব্যবস্থা বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে যানজট নিরসন, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সিএনজি, অটোরিকশা ও মাইক্রোবাস চলাচল নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে পৌরসভার আওতায় সাতটি স্ট্যান্ড ইজারা দেওয়া হয়।

গত ৩০ জুলাই পৌরসভা সাতটি স্ট্যান্ড প্রায় দেড় কোটি টাকায় ইজারা দেয়। এরপর ৩১ জুলাই থেকে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী সিএনজি ও অটোরিকশা থেকে ৩০ থেকে ৪০ টাকা করে টোল আদায় শুরু হয়।

চালকদের অভিযোগ, আগে তারা নিজেরাই যানজট নিয়ন্ত্রণে লোক নিয়োগ করে ১০ টাকা করে জিপি দিতেন। এখন হঠাৎ করে ৪০ টাকা টোল আরোপ করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন রুটে যাত্রীভাড়া নির্ধারণ না থাকায় চালকদের বিরুদ্ধে ইচ্ছামতো ভাড়া আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

সিএনজি চালক শরিফুল ইসলাম, আবদুল আলীম, রাজু, রবিউল, বিল্লাল ও নজরুল ইসলাম বলেন, “আমরা আগে ১০ টাকা করে জিপি দিতাম। এখন ৪০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। ১০ টাকার বেশি এক টাকাও দেব না। টোল আদায় বন্ধ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) বলেন, সাতটি স্ট্যান্ডের ইজারাসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য এখনই দেওয়া সম্ভব নয়। ইজারা-সংক্রান্ত চূড়ান্ত তালিকা এখনো প্রস্তুত হয়নি।

পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফয়ল উদ্দিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় ব্যস্ত থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “চালকদের অভিযোগ, আগে তারা ১০ থেকে ২০ টাকা করে জিপি দিতেন, এখন তা বাড়িয়ে ৪০ টাকা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কোন রুটে কত টোল এবং কত ভাড়া হবে, তা নির্ধারণের পরই কার্যক্রম শুরু করা হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত টোল আদায় বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।”

আরো পড়ুন
error: Content is protected !!