০১:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অসহায়দের পাশে রয়েছে দাদিয়াপাড়া মানব কল্যাণ সংস্থা কুমিল্লায় জামায়াত প্রার্থীসহ ১৬ জনের মনোনয়ন বাতিল কুমিল্লা জেলা রিটার্নিং কর্তার কার্যালয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন কুবিতে খালেদা জিয়া, হাদি ও দীপু চন্দ্রের আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনা ব্রাহ্মণপাড়ায় মাটি ব্যবসায়ীকে লাখ টাকা জরিমানা; ড্রেজিংয়ের সরঞ্জাম ধ্বংস কুবি ভর্তি পরীক্ষায় আবেদন পড়েছে ৯৬ হাজার, আসন প্রতি লড়বেন ১০৯ জন কুমিল্লায় পবিত্র কোরানের সুর অডিশন রাউন্ড অনুষ্ঠিত কুমিল্লায় রেললাইনের পাশ থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার বুড়িচংয়ে কৃষিজমির মাটি কাটার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান; ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা বুড়িচং দারুস সালাম মাদানীয়া মাদরাসায় বই উৎসব অনুষ্ঠিত

কুমিল্লায় দুই ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেফতার

  • তারিখ : ১১:২০:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫
  • 1669

জহিরুল হক বাবু।।
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে মাদ্রাসার ২ জন শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকার করার অভিযোগে প্রধান শিক্ষক’কে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা।

বৃহস্পতিবার ২৮ আগস্ট রাত ৯ টায় বুড়িচং উপজেলার ভারেল্লা উত্তর ইউনিয়নের কংশনগর বাজার মারকাযুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসার বর্ডিং থেকে অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে আটক করে স্থানীয়রা।

পরে বুড়িচং থানা পুলিশকে খবর দিলে রাত দশটায় পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের নাম মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল (৩০), সে পার্শ্ববর্তী দেবিদ্বার উপজেলার বাঙ্গরি গ্রামের মৃত অহিদ আলীর ছেলে।

এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার এক শিশুর পিতা বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ আজিজুল হক। মামলার বরাত দিয়ে তিনি জানান, অভিযুক্ত ওই শিক্ষক মাদ্রাসার বোর্ডিংয়ে থেকে শিক্ষার্থীদের নাজেরা বিভাগের পড়াশোনা করাতো।

গত ২৫ আগস্ট রাত রাত ১১ টায় মাদ্রাসার সকল ছাত্ররা ঘুমিয়ে গেলে প্রধান শিক্ষক ১১ বছরের দুই শিশু শিক্ষার্থীকে ডেকে অফিসকক্ষে নিয়ে আসে। এ সময় তার শরীরে মালিশ করে দেওয়ার কথা বলে। পরে বিভিন্ন ভয়-ভীতি দেখিয়ে দুই শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকার করে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আমির হোসেন জানান, অভিযুক্ত ওই শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরেই মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষার্থীকে বলাৎকার করে আসছিল। এর মধ্যে একটি শিশু অসুস্থ হয়ে বাড়িতে গেলে তার বাবার কাছে বিষয়টি বলে।

পরে ওই শিশুর অভিভাবক স্থানীয় লোকজনদের নিয়ে মাদ্রাসায় এসে প্রধান শিক্ষককে জিজ্ঞেস করে। এ সময় মাদ্রাসায় থাকা আরও দুজন শিশু তাদেরকেও বলাৎকার করা হয়েছে বলে সবার সামনে প্রকাশ করে। পরে স্থানীয় লোকজন শিক্ষককে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। গ্রামবাসী অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইব্রাহিম খলিলের বিরুদ্ধে এর আগেও ধর্ষণের অভিযোগে দেবিদ্বার থানায় মামলা রয়েছে। নিজের চাচাতো বোনকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা সেই মামলায় তিনি বর্তমানে জামিনে আছেন।

এ ঘটনার পর মাদ্রাসার আবাসিক সব শিক্ষার্থীকে তাদের পরিবার নিয়ে গেছে। তবে মাদ্রাসার অন্যান্য শিক্ষক এখনও সেখানে অবস্থান করছেন। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বুড়িচং থানার ওসি আরো জানান, অভিযুক্ত ইব্রাহিম খলিলের বিরুদ্ধে দেবিদ্বার থানায় আগেও একটি ধর্ষণ মামলা রয়েছে। আজ শুক্রবার কুমিল্লা আদালতের মাধ্যমে আসামিকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হবে জানিয়েছে তিনি।

error: Content is protected !!

কুমিল্লায় দুই ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেফতার

তারিখ : ১১:২০:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫

জহিরুল হক বাবু।।
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে মাদ্রাসার ২ জন শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকার করার অভিযোগে প্রধান শিক্ষক’কে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা।

বৃহস্পতিবার ২৮ আগস্ট রাত ৯ টায় বুড়িচং উপজেলার ভারেল্লা উত্তর ইউনিয়নের কংশনগর বাজার মারকাযুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসার বর্ডিং থেকে অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে আটক করে স্থানীয়রা।

পরে বুড়িচং থানা পুলিশকে খবর দিলে রাত দশটায় পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের নাম মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল (৩০), সে পার্শ্ববর্তী দেবিদ্বার উপজেলার বাঙ্গরি গ্রামের মৃত অহিদ আলীর ছেলে।

এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার এক শিশুর পিতা বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ আজিজুল হক। মামলার বরাত দিয়ে তিনি জানান, অভিযুক্ত ওই শিক্ষক মাদ্রাসার বোর্ডিংয়ে থেকে শিক্ষার্থীদের নাজেরা বিভাগের পড়াশোনা করাতো।

গত ২৫ আগস্ট রাত রাত ১১ টায় মাদ্রাসার সকল ছাত্ররা ঘুমিয়ে গেলে প্রধান শিক্ষক ১১ বছরের দুই শিশু শিক্ষার্থীকে ডেকে অফিসকক্ষে নিয়ে আসে। এ সময় তার শরীরে মালিশ করে দেওয়ার কথা বলে। পরে বিভিন্ন ভয়-ভীতি দেখিয়ে দুই শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকার করে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আমির হোসেন জানান, অভিযুক্ত ওই শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরেই মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষার্থীকে বলাৎকার করে আসছিল। এর মধ্যে একটি শিশু অসুস্থ হয়ে বাড়িতে গেলে তার বাবার কাছে বিষয়টি বলে।

পরে ওই শিশুর অভিভাবক স্থানীয় লোকজনদের নিয়ে মাদ্রাসায় এসে প্রধান শিক্ষককে জিজ্ঞেস করে। এ সময় মাদ্রাসায় থাকা আরও দুজন শিশু তাদেরকেও বলাৎকার করা হয়েছে বলে সবার সামনে প্রকাশ করে। পরে স্থানীয় লোকজন শিক্ষককে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। গ্রামবাসী অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইব্রাহিম খলিলের বিরুদ্ধে এর আগেও ধর্ষণের অভিযোগে দেবিদ্বার থানায় মামলা রয়েছে। নিজের চাচাতো বোনকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা সেই মামলায় তিনি বর্তমানে জামিনে আছেন।

এ ঘটনার পর মাদ্রাসার আবাসিক সব শিক্ষার্থীকে তাদের পরিবার নিয়ে গেছে। তবে মাদ্রাসার অন্যান্য শিক্ষক এখনও সেখানে অবস্থান করছেন। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বুড়িচং থানার ওসি আরো জানান, অভিযুক্ত ইব্রাহিম খলিলের বিরুদ্ধে দেবিদ্বার থানায় আগেও একটি ধর্ষণ মামলা রয়েছে। আজ শুক্রবার কুমিল্লা আদালতের মাধ্যমে আসামিকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হবে জানিয়েছে তিনি।