টানাবৃষ্টিতে নগরবাসী ভোগান্তিতে চরমে

রুবেল মজুমদার।।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদের’ প্রভাবে রবিবার দুপুর থেকে নগরীতে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। রাতভর ছিলো বৃষ্টি।সকালেও বৃষ্টি থামার লক্ষণ নেই। যা সোমবার (৬ ডিসেম্বর) সারাদিন থেমে থেমে বৃষ্টি চলমান রয়েছে । বৃষ্টির কারণে নগরীর অফিসগামী থেকে শুরু করে সাধারণ যাত্রীরা যাতায়াতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। রাস্তায় স্বাভাবিকের তুলনায় যানবাহন ছিল কম। চলছে এইচএসসি পরীক্ষা, বৃষ্টিতে পরীক্ষার্থীরা পড়েছেন বিপাকে। অনেকে রিকশায় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন।

গণপরিবহন সংকট ও সড়কে সড়কে জলবদ্ধতা ও ভোগান্তির মাঝেও কর্মদিবসে লোকজন ছুটছেন কর্মস্থলে,পথে পথে নাকাল হন তাঁরা। সকাল থেকে টানা বৃষ্টিতে বিপাকে পড়েছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরাও ।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়,কুমিল্লায় নগরীর কান্দিরপাড় থেকে রাজগঞ্জ সড়ক, টাউনহল মাঠ, লাকসাম রোড থেকে টমছম ব্রিজ পর্যন্ত, সদর হাসাপাতাল, নজরুল অ্যাভিনিউ সড়ক, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড এলাকা, নগরীর দক্ষিণ চর্থা, মহিলা কলেজ রোড, পুলিশ লাইন, রেইসকোর্স, ঠাকুরপাড়া, শাকতলা, চকবাজার থেকে কাপড়িয়াপট্টিসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকার সড়কগুলো বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে।এতে জলবদ্ধতা সৃষ্টির ফলে ভোগোন্তি বেড়েছে নগরবাসী।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের এইচএসসি পরীক্ষা শ্যামল দত্ত জানান, বৃষ্টির মাঝে রিকশা না পেয়ে হেঁটে হেটে কুমিল্লা সরকারি কলেজ পরীক্ষা দিয়েছি।পরীক্ষা শেষে ফের পরিবহণের জন্য অপেক্ষা করেও, কোনো রিকশা পায়নি। দুই-একটা রিকশা -সিএনজি পেলেও অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করাই বাধ্য হয়ে হেঁটে হেঁটে বাসা আসলাম।

অশোকতলা এলাকার ব্যাংক কর্মকর্তা মামুন মোল্লা জানান, সকালে চকবাজার অফিসে যাব, কিন্তু বৃষ্টির কারণে রিকশা ও সিনএজি পাচ্ছি না। যে দুই-একটা রিকশা -সিএনজি আসছে সেগুলো অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই হয়ে আসায় ওঠা যাচ্ছে না।

নগরীর বিশ্বরোড থেকে আসা কলেজ বেসরকারি এক চাকুরীজীবি জানান, রাস্তায় পরিবহনের সংখ্যা খুবই কম। সিএনজি ও রিক্সা ভাড়া দ্বিগুনেরও বেশি। আমরা সাধারণ মানুষই সব সময়ই বিপদে থাকি। একটু কিছু হলেই সবাই ভাড়া বেড়ে যায় কিন্তু আমাদের বেতন তো আর বাড়ে না।এটা কোনো কথা হলো ভাই ।

আরেক পথচারী বলেন, খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া আজ কারও বাইরে বের হওয়া উচিত নয়। রাস্তায় গণপরিবহন তেমন নেই, সেই সঙ্গে রাস্তা রাস্তা পানির জলবদ্ধতা। সকালে আমার মতো যারা কাজে বের হয়েছেন তারা খুব ভোগান্তিতে পড়েছেন।

কুমিল্লা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা ইসমাইল ভূঁইয়া বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদের’ কারনে নিম্নচাপটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে, এর প্রভাবেই বৃষ্টি হচ্ছে। কুমিল্লা গত ২৪ ঘণ্টায় রবিবার (০৬ডিসেম্বর) দুপুর থেকে সোমবার (০৬ডিসেম্বর) দুপুর পর্যন্ত ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এবং চলমান নিম্নচাপটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে কারণে বুধবার (০৮ ডিসেম্বর) সকাল পর্যন্ত বৃষ্টিপাত থাকতে পারে ।

উল্লেখ্য আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গভীর নিম্নচাপটির কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গড় গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার রয়েছে। দমকা ও ঝোড়ো হাওয়া বেড়ে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের সব সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেতের আওতায় রাখা হয়েছে। সমুদ্রে অবস্থানরত নৌযান ও মাছ ধরার নৌকাগুলোকে উপকূলে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।

     আরো দেখুন:

পুরাতন খবর

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  

You cannot copy content of this page