পরিবেশ রক্ষায় ৯ দফা দাবী উত্থাপন করে তা বাস্তবায়নের দাবী জানালেন এইচআরপিবি

মোঃ জহিরুল হক বাবু।।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে ’’হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)’’ কর্তৃক শনিবার (৫জুন) এক ভার্চুয়াল সভা (জুম মিটিং) সংগঠনের প্রেসিডেন্ট এডভোকেট মনজিল মোরসেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তব্য রাখেন এডভোকেট মোঃ ছারওয়ার আহাদ চৌধুরি, এড. এখলাছ উদ্দিন ভুইয়া, এড. মোঃ জাহাংগির হোসেন, এড. মাহবুবুল ইসলাম, এড. ইমরুল কাওসার, এড. রিপন বাড়ৈ, ডিএজি কাজী মাইনুল হাসান, এএজি সামিউল আলম, কে এম সবুজ, এডভোকেট মামুন আলিম, এড. মোঃ তাজউদ্দিন, এড. রফিকুল ইসলাম, এড. জাহিদুল হক প্রমুখ।

সভায় বক্তারা পরিবেশ এর বিভিন্ন ক্ষতিসাধন ও আইন অমান্য করার বিষয় তুলে ধরে সরকারকে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করে পরিবেশের ক্ষতি পুনঃরুদ্ধারে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানান। বক্তারা পরিবেশ সংক্রান্ত শত শত জনস্বার্থের মামলায় আদালতের রায় ও নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে এডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন বর্তমান প্রেক্ষাপটে মহামারি করোনায় মানবজাতি যখন ভযাবহ দুঃসময় অতিবাহিত করছে সেরকম সময় বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন অত্যান্ত গুরুত্বপুর্ন ও তাৎপর্য্যপুর্ন। বিশেষ করে বিশ্বব্যাপি অপরিকল্পিত উন্নয়ন এবং ইকোসিষ্টেম এর উপর বিভিন্ন প্রকার ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে পরিবেশের যে মারাত্বক ক্ষতি সাধন করা হয়েছে তা পুঃনরুদ্ধার ছাড়া মানবজাতি সুস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবিন যাপন করতে পারবে না। সে প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ যথার্থইএ বছরের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারন করেছেন ’’ইকোসিষ্টেম পুনঃরুদ্ধার’’।

তিনি বলেন বাংলাদেশ এর প্রেক্ষাপটে ’’বিশ্ব পরিবেশ দিবস’’ আরও গুরুত্ব বহন করে। খাল. নদী, বিল– পাহার, পর্বত, বন জংগল- পশু পাখি, প্রকৃতির এমন সমাহার আজ হারিয়ে যাচ্ছে । বিশ্বে বায়ু দুষনে আমাদের রাজধানি ঢাকা প্রথম স্থানে থাকছে। অজ্ঞতা, অসতর্কতা এবং অপরিকল্পিত উন্নয়ন এর নামে সুন্দর ও প্রাকৃতিক পরিবেশে ভরপুর বাংলাদেশ আজ অনেকটা খুজে পাওয়া যায় না। এর অন্যতম কারন প্রকৃতি ও পরিবেশের এ ক্ষতির সাথে যারা জড়িত তারা বিত্তশালি, প্রভাবশালি, রাজনৈতিক ক্ষমতাশালি।

অনেক অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশ বিধংসি কাজের সাথে এবং রায় প্রতিবন্ধকত সৃষ্টির ক্ষেত্রে বিভিন্ন পর্য্যায়ের জনপ্রতিনিধিরাও জড়িত, যার কারনে প্রশাষন থমকে যায়। এর থেকে উত্তরনের জন্য সংবিধানের আর্টিকেল ১০৮ একমাত্র হাতিয়ার হলেও তাও অনেকটা মুখ থুবরে পরেছে। রায় বাস্তবায়ন না হওয়ার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে কয়েকদিন আগে বর্তমান মাননীয় প্রধান বিচারপতির বক্তব্যে। তাছাড়াও আমরা আইনজীবিরা প্রতিনিয়ত পরিবেশের বহু রায় হাতে নিয়ে ঘুরতে থাকি কিন্তু আগের মত আদালত অবমাননার হাতিয়ারকে কার্যকর হতে দেখি না এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে প্রাকটিসের প্রথাও অনুসরন করা হয়না।

সংগঠনের পক্ষ হতে পরিবেশ রক্ষায় ৯ দফা দাবী উথ্বাপন করে সরকারকে তা বাস্তবায়নের অনুরোধ জানান হয়;-

১) পরিবেশ বিধংসি কাজের সাথে জড়িত যে কোন সংসদ সদস্য বা অন্য যে কোন জনপ্রতিনিধিদের পদ থেকে অপসারন ও নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষনা করার আইন প্রনয়ন করতে হবে।

২) জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে শক্তিশালি করে তাকে ক্ষমতায়ন এবং কমিশনকে ক্যাবিনেট এর আওতায় পরিচালনা করতে হবে।

৩) সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, জেলা, উপজেলায় প্রকৃতি ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্থ হলে (প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যাতিত) সংশ্লিষ্ট এলাকার কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত দায়বদ্ধ করার আইন পাস করতে হবে।

৪) পরিবেশ রক্ষায় কাজ করা পরিবেশবাদি, আইনজীবি, সাংবাদিক এবং সকল ব্যক্তির সুরক্ষা প্রশাষনিকভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

৫) পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকবল বৃদ্ধি, সকল জেলায় পর্যাপ্ত লোকবলসহ অফিস সংস্থাপন এবং পরিবেশ রক্ষার কাজে প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্ধ নিশ্চিত করতে হবে।

৬) নদীর পাশে যে কোন প্রজেক্ট বাস্তবায়িত করতে হলে আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুসারে সি এস রেকর্ড অনুসারে নদীর সীমানা নির্ধারন করে তা সংরক্ষন করতে হবে।

৭) পরিবেশের ক্ষতির করার কারনে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা বা সাজাপ্রাপ্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রতিষ্ঠান তাৎক্ষনিক বন্ধ ঘোষনার আইন প্রনয়ন করতে হবে।

৮) পরিবেশ সংক্রানÍ সকল বিভাগে দক্ষ, সৎ, কমিটেড এবং পরিবেশ নিয়ে পড়াশুনা করা ব্যক্তিকে নিয়োগ করতে হবে।

৯) পরিবেশ মন্ত্রনালয়ের বাজেট ৩ গুন বৃদ্ধি করে পরিবেশ রক্ষায় কার্যকরি ভুমিকা পালন করতে হবে।

     আরো দেখুন:

পুরাতন খবর

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০