কুমিল্লায় কন্যাশিশুদের গয়না ছিনতাই আতঙ্ক; দেড় মাসে অন্তত ৫টি ঘটনা

স্টাফ রিপোর্টার।।
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় পরিকল্পিতভাবে কন্যাশিশুদের টার্গেট করে স্বর্ণ ও রুপার গয়না ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। মায়ের বান্ধবী পরিচয়, খেলনা ও মোবাইলের প্রলোভনসহ নানা কৌশল ব্যবহার করে শিশুদের বাড়ির পাশ কিংবা স্কুল ফেরার পথে তুলে নিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে গয়না খুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

গত দেড় মাসে চান্দিনা পৌরসভা ও এতবারপুর ইউনিয়নে অন্তত পাঁচটি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবগুলোর ধরন প্রায় একই এবং একজন বোরকা পরিহিত নারী এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Post Inside

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে ছায়কোট এলাকায় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী জান্নাত বিদ্যালয় ছুটির পর সহপাঠীদের সঙ্গে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় একটি সিএনজি অটোরিকশা এসে তার পাশে থামে। বোরকা পরিহিত এক নারী নিজেকে শিশুটির মায়ের বান্ধবী পরিচয় দিয়ে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেন। প্রথমে সন্দেহ করলেও পরে ওই নারী ব্যাগ থেকে শিশুর জন্য কেনা জিনিস দেখিয়ে তাকে প্রলুব্ধ করেন। এক পর্যায়ে জান্নাতকে সিএনজিতে তুলে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরের বরকইট বাজার এলাকায় নিয়ে গিয়ে কানের স্বর্ণের দুল ও পায়ের রূপার নুপুর খুলে নেওয়া হয়। পরে শিশুটিকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে চলে যায় ওই নারী। স্থানীয়দের সহায়তায় পরিবারের সদস্যরা বিকেলে তাকে উদ্ধার করেন।

এর আগে ২৭ মার্চ সকালে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তুলাতলী উত্তরপাড়া এলাকায় বাড়ির সামনে খেলা করছিল তিন শিশু। একই কৌশলে বোরকা পরিহিত নারী প্রথমে দোকান থেকে খেলনা কিনে তাদের হাতে দেন এবং মোবাইলে ভিডিও দেখিয়ে আকৃষ্ট করেন। পরে অটোরিকশায় তুলে ছায়কোট এলাকায় নিয়ে গিয়ে নির্জন স্থানে দুই শিশুর কানের স্বর্ণের দুল ও গলার রূপার চেইন খুলে নেওয়া হয়।

২৬ মার্চ এতবারপুর ইউনিয়নের বানিয়াচং গ্রামেও একই কৌশলে এক কন্যাশিশুর কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তার আগের দিন ১৮ মার্চ হারং গ্রামে দুই শিশুকে লক্ষ্য করে একইভাবে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে বড় শিশুটির কানের দুল খুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটে, যার সিসিটিভি ফুটেজ স্থানীয়দের কাছে রয়েছে বলে জানা গেছে।

এরও আগে ১৩ ফেব্রুয়ারি এতবারপুর গ্রামে সেনাবাহিনীতে কর্মরত এক ব্যক্তির ১০ বছর বয়সী মেয়েকে বাড়ির পাশ থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে কানের স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

ঘটনাগুলো পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রতিবারই শিশুদের পরিচিত পরিবেশ থেকে টার্গেট করা হচ্ছে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে ১ থেকে ৫ কিলোমিটারের মধ্যে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে গয়না খুলে নেওয়া হচ্ছে। এরপর শিশুদের ফেলে রেখে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করছে অভিযুক্ত নারী। একই ধরনের কৌশল ও ধারাবাহিক ঘটনার কারণে এর পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র থাকার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে। অনেকেই এখন শিশুদের একা বাইরে যেতে দিচ্ছেন না। স্থানীয়দের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও শিশু ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ আতিকুর রহমান জানান, “ঘটনাগুলো গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।”

আরো পড়ুন
error: Content is protected !!