ব্রাহ্মণপাড়ায় সরকারি হাসপাতালে রোগীদের সাথে চিকিৎসকের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ

মো. বিল্লাল হোসেন ।।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডা. তাসনিমা আজিজ নোভার বিরুদ্ধে রোগীদের সাথে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা নিতে আসা সাধারণ রোগীদের সঙ্গে ভালো আচরণ করেন না বলে এমন অভিযোগ তুলেছেন রোগীরা।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডা. তাসনিমা আজিজ নোভার বিরুদ্ধে রয়েছে রোগীর সাথে খারাপ আচরণের অনেক অভিযোগ। তার অশালীন আচরণে অতিষ্ঠ সেবা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা। জানা গেছে তার বাড়ি স্বাস্থ্য মন্ত্রীর এলাকায় হওয়ায় তিনি কাউকেই তোয়াক্কা করেন না। এ নিয়ে এলাকায় ব্যপক ক্ষোভের আবহ বইছে।

Post Inside

এ ব্যপারে ভুক্তভোগী রোগীর সাহায্যকারী উপজেলার সদরের বাসিন্দা গাজী আবদুল হান্নান বলেন, ‘শনিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে আমার মায়ের চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েছিলাম। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে আমার মাকে ডাক্তার দেখাই। ডাক্তার আমার মা (শাহেদা বেগম (৭৫)কে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ ও চিকিৎসা প্রদান করেন এবং বলেন ভর্তি ফরমটি ইমার্জেন্সি বিভাগে নিয়ে গেলেই ভর্তি করে দেবে।

এসময় ইমার্জেন্সি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন ডা.তাসনিমা আজিজ নোভা। ভর্তির বিষয়ে কথা বলতে গেলে তিনি বলেন “এই রোগী আমি দেখিনি, এই রোগীকে আমি ভর্তি দিতে পারবো না। যাকে দেখিয়েছেন তাকে এসে ভর্তি দিতে বলো।” ভর্তি দেওয়ার ব্যাপারে বার বার অনুরোধ করলে তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এসময় তিনি আমার সাথে অত্যন্ত খারাপ আচরণ করেন। বর্তমানে আমার মা ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে।

উপজেলার বালিনা এলাকার বাসিন্দা জেসমিন বেগম বলেন, ‘আমার মেয়ে সায়মা (৫)কে নিয়ে গত শনিবার (৮ অক্টোবর) সকালে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে যাই, এসময় চিকিৎসকের দায়িত্বে থাকা ডা. নোভা আমার সাথে অত্যন্ত খারাপ আচরণ করেন।’ এছাড়াও ডা. তাসনিমা আজিজ নোভার বিরুদ্ধে আরও অনেক রোগীর একই অভিযোগ রয়েছে। এভাবে রোগীদের সাথে খারাপ আচরণের কারণে এলাকায় সাধারণ রোগীদের মধ্যে ক্ষোভের আবহ বইছে। সাধারণ মানুষের অভিমত এরকমভাবে খারাপ আচরণের ফলে সরকারি হাসপাতালের প্রতি রোগীদের অনীহা বাড়বে দিন দিন।

ডা. তাসনিমা আজিজ নোভা বলেন ‘ আমি কোনো রোগীর সাথে খারাপ আচরণ করিনি। আপনারা সাংবাদিকরা মোবাইলে কথা না বলে দুদিন পর সরাসরি আসুন, আপনাদের সাথে কথা বলবো।,

স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু হাসনাত মোঃ মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমি বিষয়টি শুনেছি। আমি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সাথে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করবো। ‘

আরো পড়ুন
error: Content is protected !!