রোহিঙ্গা জন্মসনদ চক্রের হোতা বরখাস্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান চান স্থানীয়রা

স্টাফ রিপোর্টার।।
রোহিঙ্গা নাগরিককে জন্মসনদ দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও নিবন্ধন সহকারী মো. ইসমাইল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জেলা প্রশাসন। গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে জেলা প্রশাসক রোজি আক্তার তাকে বরখাস্ত করেন। সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

ইসমাইল হোসেনের বরখাস্তের খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর তার নিজ এলাকা কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার গুনানন্দী গ্রামেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের একটি অংশ তার বিরুদ্ধে থাকা পুরোনো নানা অভিযোগের তদন্ত এবং কথিত অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করে তা জব্দের দাবি জানিয়েছেন।

Post Inside

স্থানীয়দের অভিযোগ, গুনানন্দী গ্রামের ২২ নম্বর গেইট সংলগ্ন এলাকার মৃত বাচ্চু মিয়ার ছেলে ইসমাইল হোসেন ইউপি সচিব হিসেবে কর্মরত থাকলেও এলাকায় নিজেকে ‘মন্ত্রণালয়ের সচিব’ হিসেবে পরিচয় দিতেন। তার বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখল, প্রতারণা এবং বিভিন্ন সরকারি সেবা দিতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ২০২১ সালের ২ মার্চ শত বছরের পুরোনো সরকারি রাস্তার জায়গা দখল করে নির্মাণ করা তার তিনতলা ভবন ভেঙে উচ্ছেদ করে জেলা প্রশাসন। তৎকালীন কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনি রায়ের নেতৃত্বে ওই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, ইসমাইল হোসেনের চাকরিচ্যুতির খবরে তার কাছে বিভিন্ন সময়ে হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হওয়া লোকজনের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তারা তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নামে-বেনামে থাকা কথিত অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন।

জেলা প্রশাসনের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, মুরাদনগর উপজেলা সদর ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্মসনদ প্রদানের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। গত ১২ আগস্ট অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) প্রেরিত তদন্ত প্রতিবেদনে তার সংশ্লিষ্টতা সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হয়। তার এ কর্মকাণ্ড স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী অসদাচরণের শামিল হওয়ায় তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

আদেশে আরও বলা হয়, সাময়িক বরখাস্তকালীন তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন এবং বরখাস্তের আদেশ তার চাকরি বহিতে লিপিবদ্ধ করা হবে।
এর আগে রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্মসনদ দেওয়ার অভিযোগে হাতেনাতে আটক হয়ে প্রায় সাত মাস কারাগারে ছিলেন ইসমাইল হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, জন্মনিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, নাগরিকত্ব ও ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতেন তিনি।

এ বিষয়ে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুলতানা রাজিয়া বলেন, মুরাদনগরের পাহাড়পুর ইউনিয়নের সচিবের সঙ্গে সদর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ইসমাইল হোসেন মিলে একজন রোহিঙ্গা নাগরিককে জন্মসনদ দিয়েছিলেন। বিভাগীয় মামলার অংশ হিসেবে তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তদন্ত শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

ইসমাইল হোসেনের বক্তব্য জানতে ফোন করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।

এদিকে মুরাদনগরে তার সর্বশেষ কর্মস্থল এবং এর আগে কর্মরত চৌদ্দগ্রামেও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে ভুক্তভোগীদের মধ্যে বরখাস্তের খবরে স্বস্তি দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, শুধু চাকরি থেকে বরখাস্ত নয়, তার বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগও তদন্ত করে দোষ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

আরো পড়ুন
error: Content is protected !!