প্রাথমিক শিক্ষার গুণগতমান বৃদ্ধিতে কাব স্কাউটিং কার্যক্রম

জীবনে প্রতিটি মানুষই স্বাভাবিকভাবে সফলতা পেতে চায়। আর সফলতা মানুষের জীবনে সহজ ভাবে আসে না। প্রতিটি সফলতার পেছনে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকে যা উৎরাতে পারলেই সফলতা ধরা দেয়। শিশু-কিশোর ও যুব বয়সী শিক্ষার্থীরা জীবনের চ্যালেঞ্জগুলো যেন আনন্দের সহিত গ্রহণ করতে পারে এজন্য বর্তমান সরকার একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি সহপাঠক্রমিক শিক্ষাকে গুরুত্বের সহিত বিবেচনা করছে।

শিক্ষার প্রাথমিক স্তরে সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমকে উৎসাহিত করার জন্য শ্রেণী কার্যক্রমে যোগ করা হয়েছে চারু ও কারুকলা, সংগীত এবং শারীরিক শিক্ষার মত বিষয়গুলোকে। তাছাড়াও বিদ্যালয়ে ইতিমধ্যে সহপাঠক্রমিক কার্যক্রম হিসেবে চালু আছে বিভিন্ন জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রতিযোগিতার আয়োজন, বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট, কিশোর কিশোরী ক্লাব, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড আয়োজন। এ সফল কার্যক্রম থেকে শিক্ষার্থী বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করে। বাস্তব অভিজ্ঞতা ছাড়া শিখন কার্যক্রম কখনোই ফলপ্রসু হয় না।

আর এই বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে কাব-কাউট কার্যক্রমের সাথে জড়িত হয়ে একজন শিক্ষার্থীর শিখে কিভাবে দলগত ভাবে মিলেমিশে কাজ করতে হয়। দুর্যোগ কিভাবে মোকাবেলা করতে হয়। কিভাবে বিপদে বুকে সাহস রেখে অন্যের সহায়তা করতে হয়। সমাজের অন্য সকল প্রাণীর সাথে কিভাবে আচরণ করতে হবে তা শিক্ষা করা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর একান্ত জরুরী।

সুশিক্ষিত মানুষ হিসেবে আমাদের শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে হলে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি বাড়তি কার্যক্রমের সাথে যুক্ত করতে হবে যার মধ্যে সবচেয়ে হলো উত্তম স্কাউট আন্দোলন।

স্কাউট আন্দোলন বিশ্বব্যাপী একটি জনপ্রিয়, স্বেচ্ছাসেবী, শিক্ষামূলক, গতিশীল, অরাজনৈতিক আন্দোলন। শিশু-কিশোর ও যুব বয়সীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সৎ, চরিত্রবান, পরোপকারী, আত্ম মর্যাদার উপর নির্ভর করে গড়ে তোলাই স্কাউট আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য।

এর ধারাবাহিকতায় শিশুদের উদ্যমী দায়িত্বশীল, প্রাণোচ্ছল ও সহানুভূতিশীল করার লক্ষ্যে রবার্ট স্টিফেনসন স্মিথ লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল অব গিলাওয়েল (বিপি) ১৯০৭ সালে ২১ জন বালক নিয়ে ইংল্যান্ডের ব্রাউন্সি দ্বীপে ক্যাম্প আয়োজনের মাধ্যমে স্কাউট আন্দোলনের সূচনা করেন।

স্কাউট আন্দোলন সব ধরনের ছেলে মেয়েদের জন্য উন্মুক্ত। বাংলাদেশে স্কাউটিং তিনটি শাখায় বিভক্ত।

১। কাব স্কাউটস ( ৬ থেকে ১১ বছর)।
২। স্কাউটস (১১ থেকে ১৭ বছর)।
৩। রোভার স্কাউটস (১৭ থেকে ২৫ বছর)।

প্রাথমিক বিদ্যালয়গামী (৬ থেকে ১১ বছর) শিক্ষার্থীদের কাজ স্কাউটিং আন্দোলনের মাধ্যমে উদ্যমী ও সাহসী করে গড়ে তোলা হয়।

কাব স্কাউট আইন দুটি।

১। বড়দের কথা মেনে চলা।
২। নিজেদের খেয়ালে কিছু না করা।

এই আইনগুলো শিশুদের মাঝে লালন করা গেলে শিশুরা একদিন আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।

কাবেরা কাজ শিখে অভিযানের মাধ্যমে, নিজেদের কাজ নিজেরা করে, ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে দলগতভাবে কাজ করে, ফলশ্রুতিতে শিশুদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলী বিকাশ ঘটে।

খেলাধুলার মাধ্যমে আনন্দের সহিত শিশুদের কাবের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রাখা হয় এতে শিশুদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায় যার মাধ্যমে শিশু নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করে নিজেকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে।

কাবিং কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুদের তিন আঙ্গুলের বিশেষ কায়দায় সালাম দেওয়া ও গ্রহণ করা, ডান হাতে করমর্দন ইত্যাদি শেখানো হয় ফলে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই শিশুরা নিয়ম-শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতা বিষয়ে জ্ঞান লাভ করে।

ছোটবেলা থেকেই শিশুরা কাবিং কার্যক্রম এর মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছে যেমন পরিবেশ সংরক্ষণ করা, বাড়ির আশেপাশ ও বিদ্যালয় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা, বৃক্ষরোপন করা, প্রতিবন্ধী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়ানো, খুদে ডাক্তার কার্যক্রম, স্টুডেন্ট কাউন্সিল নির্বাচনে সহায়তা করা, বিভিন্ন প্রতিযোগিতা স্বেচ্ছাসেবী কাজে সহায়তা করা ইত্যাদি।

আজকের শিশুরাই আগামীর ভবিষ্যৎ, তাই শিশুদের কাবিং কার্যক্রমের সাথে আরো বেশি সম্পৃক্ত করে এই কার্যক্রম কে আরও সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করা হলে এই শিশুরাই আগামী দিনের বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে ভূমিকা পালন করতে পারবে। এতে নিশ্চিত করে বলা যায় প্রাথমিক শিক্ষার শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি করতে চাইলে কাবি়ং কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা অত্যন্ত অপরিহার্য।

 

লিখেছেন..

নূর মোহাম্মদ মামুন

সহকারী শিক্ষক

পরানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ

     আরো দেখুন:

পুরাতন খবর

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯  

You cannot copy content of this page