কুমিল্লায় ৬টি মোটরসাইকেলসহ চোরাচালান চক্রের ৯ সদস্য গ্রেপ্তার

স্টাফ রিপোর্টার।।
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভারত থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে আনা ছয়টি মোটরসাইকেলসহ চোরাচালান চক্রের নয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।

শনিবার (২২ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ২৫ মিনিটে ময়নামতি এলাকার কাটা জঙ্গল সাকিনে বিদ্যুৎ অফিসের সামনে সিলেট-কুমিল্লা মহাসড়কে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

Post Inside

ডিবি পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ভারত থেকে সরকারি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে মোটরসাইকেল দেশে এনে কুমিল্লা, ফেনী, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির উদ্দেশ্যে পরিবহন করছে। এর ভিত্তিতে ডিবির একটি বিশেষ দল ওই এলাকায় কৌশলগত অবস্থান নেয়।

রাত আনুমানিক ২টা ২৫ মিনিটে ছয়টি মোটরসাইকেলে করে নয়জন ওই এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ তাদের থামার সংকেত দেয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করলে ডিবি সদস্যরা অভিযান চালিয়ে নয়জনকে আটক করেন।

পরে তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজপত্র যাচাই করা হলে তারা কোনো বৈধ রেজিস্ট্রেশন বা মালিকানাসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা পরস্পর যোগসাজশে ভারত থেকে চোরাইপথে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মোটরসাইকেলগুলো বাংলাদেশে এনে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির উদ্দেশ্যে পরিবহনের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার কচুয়ারপাড় গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে কামিম আহম্মদ (২৮), কোতোয়ালি থানার ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের শাহী ঈদগা এলাকার মনির মিয়ার ছেলে আঃ করিম (৩০), সুনামগঞ্জ সদর থানার পুরাতন গদিগাঁও গ্রামের শাহ আলমের ছেলে সাইদুল ইসলাম (২২), সিলেটের জালালাবাদ থানার নলকট গ্রামের তরিক মিয়ার ছেলে পাবেল আহম্মদ (২৬), একই থানার নীলগাঁও গ্রামের আঃ খালেকের ছেলে হোসাইন (২৩), সুনামগঞ্জের দিরাই থানার দিরাই চান্দপুর গ্রামের হেমেন্দ্র চন্দ্র দাসের ছেলে রিপন চন্দ্র দাস (২৯), সিলেট কোতোয়ালি থানার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের চারাদিঘীরপার এলাকার সালাউদ্দিনের ছেলে রাজু আহম্মদ (২৮), সুনামগঞ্জের ছাতক থানার তাতিকোনা গ্রামের সাহেদ আলীর ছেলে আবিদুল ইসলাম (২৮) এবং সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার সালুটিঘর গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে কাওছার হোসেন (২৬)।

অভিযানে একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন নীল-সাদা রঙের Yamaha R15, একটি কালো রঙের Yamaha MT15, দুটি সাদা ও কালো রঙের Yamaha R15, একটি কালো রঙের Yamaha MT15 এবং একটি নীল রঙের Yamaha R15 মোট ছয়টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরো পড়ুন
error: Content is protected !!