
স্টাফ রিপোর্টার।।
কুমিল্লা নগরীতে পেশাজীবী ও সাংবাদিক মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেছেন। হামলা, হুমকি, চাঁদাবাজি, হয়রানি ও ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে তিনি একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান, প্রায় এক যুগ ধরে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি একাধিকবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি), আদালতে মামলা এবং প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে এখনো কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা ও প্রতিকার না পাওয়ায় তিনি ও তার পরিবার চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।

সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১৬ এপ্রিল মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে কুমিল্লা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-১ এ একটি সিআর মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে কোতোয়ালি মডেল থানাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলাটি দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় রেকর্ড করা হয়েছে।
সাংবাদিক শুভ্র জানান, ২০১৭ সালের ৩ মে থেকে ২০২৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিজের নিরাপত্তা ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি একাধিক জিডি করেছেন। তার অভিযোগ, পেশাগত কাজে বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারধর, অর্থ দাবি এবং ব্যক্তিগত মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পরও অভিযুক্তরা বিভিন্নভাবে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ, ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছে। তার দাবি, বিষয়টি নিয়ে তিনি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি দিয়েছেন।
এদিকে সাংবাদিক শুভ্রের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং মানহানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
মানবাধিকার কর্মী ও মানবাধিকার খবরের সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, একজন গণমাধ্যমকর্মী যদি আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার পরও নিরাপত্তাহীনতায় থাকেন, তাহলে বিষয়টি উদ্বেগজনক। তিনি দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর অভিযোগ ও মামলার ভিত্তিতে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে আইনশৃঙ্খলার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।