মুরাদনগরে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে সরকারি খাল ভরাট, প্রশাসন নিরব

মনির হোসাইন।।
সরকারি খাল দখলের হিড়িক পড়েছে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় যে যেভাবে পারছেন সেভাবেই দখল করছেন সরকারি খাল, এইসব সরকারি খাল ভরাটকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেয়ায় কারণে দিন দিন উপজেলায় খালগুলো বেদখল হয়ে যাচ্ছে।

যার ফলে এ উপজেলা প্রায় অর্ধশতাধিক সরকারি খাল মরা খালে পরিণত হয়েছে।দখল হওয়া অধিকাংশ খালের উপরে কেউ নির্মাণ করেছেন বহুতল ভবন, আবার কেউ নির্মাণ করেছেন দোকান ঘড় ও ব্যক্তি স্বার্থে রাস্তা।

কেউ আবার বসতবাড়ির জায়গা প্রশস্ত করার জন্য খাল দখল করে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রেখেছেন খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে এসব এলাকায় ফসলে জমির ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আসংখ্যাও রয়েছে।আর প্রশাসনের নীরব ভূমিকার কারণে স্থানীয়দের মাঝে চরম উত্তেজনক ও বিরাজ করছে।

সরজমিনে দেখা যায়, উপজেলায় অবৈধ ড্রেজার দিয়ে সরকারি খাল মাটি দিয়ে ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। অপর দিকে বিষয়টি উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিস বিষয়টি অবহিত থাকলেও রহস্যজনক কারনে কোন প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মাধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরী হয়েছে।

উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন পূর্বধইর পূর্ব ইউনিয়নের চাপৈর গ্রামের দৌলতপুর-মাধবপুর সড়ক সংলগ্ন খালটি দখল করে তিন ফসলি কৃষি জমি থেকে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে মাটি কেটে খালটি ভরাটের কাজ করছেন স্থানীয় শেফালি বেগম নামের এক প্রভাবশালী নারী। তবে তাঁর দাবি এটি সরকারি জায়গা নয়, তাঁর নিজস্ব জমি।

তবে স্থানীয় লোকজন বলছে, এটি সরকারি খাল। একসময় প্রবহমানও ছিল। তবে অব্যাহত দখল ও দূষণে খালটি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। আর দখলদকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় এ ব্যবস্থা নিচ্ছেনা সংশ্লিষ্ঠরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, কয়েক বছর আগেও এই খাল দিয়ে বড় বড় নৌকা চলতো। জেলেরা মাছ ধরে জীবিকা নিবার্হ করত। কিন্তু কয়েক বছর ধরে চাপৈর গ্রামের বিভিন্ন স্থানে ধীরে ধীরে খালটি দখল করে নিচ্ছেন প্রভাবশালীরা। রাতারাতি বাড়ি ও দোকানপাট নিমার্ণ করছেন। এই কাজে তাঁদের বাধা দিতেও সাহস পাচ্ছেনা। স্থানীয়রা আরো অভিযোগ করে বলেন, প্রভাবশালীরা স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিসারদের অর্থের বিনিমনে ম্যানেজ করেই খাল দখল করে স্থাপনা নিমার্ণ করছেন।

অভিযুক্ত দখলদার শেফালি বেগম বলেন, এই জমি আমি ক্রয় সূত্রে মালিক। আমার জমি থেকে মাটি কেটে এই সড়কটি নিমার্ণ করা হয়। তাই এই জমিটি খাল মনে হচ্ছে। বর্তমানে যে খালটিতে মাটি ভরাট করছি, সেটি আমার মালিকানাধীন। আর আমাদের জমিতে যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারি।

পূর্বধইর পূর্ব ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ই এন ও) স্যার আমাকে বলছে। আমি গিয়ে কাজটি বন্ধ করে দিতে।

এ বিষয়য়ে মুরাদনগর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাসান খাঁন বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানিনা, উপজেলা নিবার্হী কর্মকতার সাথে কথা বলেন।

উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা আব্দুর রহমান এই বিষয়ে বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। ঠিকানা, লোকেশনসহ আমাকে দিন আমি প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

     আরো দেখুন:

পুরাতন খবর

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  

You cannot copy content of this page