বুড়িচংয়ের মোকাম ইউনিয়নের ৯ পুজামণ্ডপে সমাজসেবক গোলাম সারোয়ারের অনুদান

নিজস্ব প্রতিবেদক।।
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নে শারদীয় দুর্গাপূজা আনন্দঘন, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্নে উদযাপনের লক্ষ্যে ৯টি পূজামণ্ডপে আর্থিক অনুদান ও বিভিন্ন সহযোগিতা দিয়েছে আমেনা-জুনাব আলী ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক মো. গোলাম সারোয়ার তাঁর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে এসব পূজামণ্ডপে আর্থিক অনুদান প্রদান করেন।

শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, পূজামণ্ডপগুলোতে দায়িত্ব পালনকারী স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য নির্দিষ্ট পোশাক এবং পূজা দেখতে আসা দর্শনার্থীদের জন্য বোতলজাত বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। পাশাপাশি নিজ ইউনিয়নের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন গোলাম সারোয়ার।

Post Inside

ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, মোকাম দুর্গামন্দির, হালগাঁও দুর্গামন্দির, কোরপাই দুর্গামন্দির, লোয়ারচর চৌধুরী বাড়ি মন্দির, কাকিয়ার চর দুর্গামন্দির, শিকারপুর দাসবাড়ি দুর্গামন্দির, দুর্গাপুর নারায়ণ দাসের দুর্গামন্দির, দুর্গাপুর রাধাকৃষ্ণ দুর্গামন্দির এবং মনিপুর সূত্রধর বাড়ি দুর্গামন্দিরে এসব অনুদান ও সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।

এ উদ্যোগের ফলে পূজার আয়োজন আরও সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা মিলেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আয়োজকেরা। তাঁরা বলেন, ধর্মীয় উৎসবকে আনন্দমুখর ও নির্বিঘ্ন করতে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকদের পোশাক ও দর্শনার্থীদের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাঁরা আমেনা-জুনাব আলী ফাউন্ডেশন এবং এর চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘আমরা সবাই একই সমাজের মানুষ, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধনে আবদ্ধ। ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষ যেন নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান স্বাধীনভাবে, নিরাপদে ও আনন্দের সঙ্গে পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা আমাদের সবার নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। একে অপরের পাশে দাঁড়ানো এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়েই মানবিকতার প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ পায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ধর্মীয় উৎসব শুধু একটি সম্প্রদায়ের আনন্দের উপলক্ষ নয়- এটি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করারও সুযোগ। মানুষের প্রতি ভালোবাসা, মানবিক আচরণ ও কল্যাণমূলক কাজের মধ্য দিয়েই একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় ফুটে ওঠে। আমরা চাই, মোকাম ইউনিয়নের প্রতিটি ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাঁদের ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করবেন এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলবেন।’

গোলাম সারোয়ার জানান, আমেনা-জুনাব আলী ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আর্তমানবতার সেবা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে কাজ করে আসছে। ভবিষ্যতেও মানুষের কল্যাণে এবং সব ধর্মের মানুষের পাশে দাঁড়াতে ফাউন্ডেশনের এ ধরনের সহযোগিতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

আরো পড়ুন
error: Content is protected !!