
স্টাফ রিপোর্টার।।
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেড দখলের চেষ্টা করছে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির একটি অংশের ২৬ জনের একটি চক্র-এমন অভিযোগ করেছেন ব্যাংকের বর্তমান সভাপতি কাজী নাজমুস সাদাত।
বুধবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

কাজী নাজমুস সাদাত বলেন, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত কর্মকর্তা যে শাস্তি দেবেন, তা তিনি মাথা পেতে মেনে নেবেন। তিনি বলেন, ‘আমি যদি দুর্নীতি করে থাকি, আমার ফাঁসি চাই। আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে যে শাস্তি দেওয়া হবে, আমি তা মাথা পেতে মেনে নেব। প্রয়োজনে ক্ষতিপূরণ দিতেও বাধ্য থাকব।’
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপিপন্থী আইনজীবী হিসেবে সাবেক চৌদ্দগ্রামে গাড়ি পোড়ানোর মামলাসহ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলায় আইনি লড়াই করেছেন তিনি। গত ১৭ বছর বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া কথিত ‘গায়েবি মামলার’ বিরুদ্ধেও আইনি লড়াই করেছেন। অথচ এখন বিএনপিরই একটি অংশ তাকে ‘স্বৈরাচার’ ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ট্যাগ দিয়ে তার বৈধ কমিটি বাতিলের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সভাপতি অভিযোগ করেন, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির একটি অংশের ২৬ জনের একটি চক্র কুমিল্লা কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তার দাবি, ব্যাংকটি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়; এটি সমবায় সদস্যদের প্রতিষ্ঠান। অথচ সমিতির সদস্য না হয়েও একটি পক্ষ ব্যাংকটি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে, যা সমবায় আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তাকে সভাপতি পদ থেকে সরাতে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আমিরুজ্জামান আমির বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন কাজী নাজমুস সাদাত। তার দাবি, আমিরুজ্জামান আমির ব্যাংকের কোনো সদস্য নন। এরপরও ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তার নেতৃত্বাধীন বৈধ কমিটি বাতিলের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
কাজী নাজমুস সাদাত আরও বলেন, সাবেক এমপি মনিরুল হক এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি করেছিলেন। ওই তদন্তে উঠে আসা বিষয়গুলোও সামনে এনে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করা প্রয়োজন।
ব্যাংকের মার্কেট উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মার্কেট নির্মাণ ও উন্নয়নে প্রায় ৮০ কোটি টাকা প্রয়োজন। বর্তমানে ব্যাংকের হিসাবে প্রায় ১২ কোটি টাকা রয়েছে। অর্থের সীমাবদ্ধতার কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দোকানের স্পেস বাড়ানোর মাধ্যমে মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি একটি চক্রের ওই অর্থের প্রতি নজর পড়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে কাজী নাজমুস সাদাতের এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আমিরুজ্জামান আমির।
তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি কখনো উক্ত ব্যাংক নিয়ে তার সঙ্গে কোনো আলোচনা করিনি। অথচ তিনিই সাংবাদিকদের সামনে আমার ফাঁসি দাবি করছেন। বিগত ১৬ বছর তিনি আ’লীগের এমপি বাহারের সঙ্গে চলাফেরা করেছেন এবং টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারত করেছেন। এর অসংখ্য প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে।’
আমিরুজ্জামান আমির আরও বলেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মী হিসেবে গত ১৬ বছরে আমরা তাকে কখনো বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত দেখিনি। বরং এই দীর্ঘ সময়ে ওই ব্যাংকে লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের কাছে হাজার হাজার প্রমাণ রয়েছে।’
ব্যাংক দখলের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা দলীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে কোনো প্রতিষ্ঠান দখল করব এমন প্রশ্নই আসে না। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার চাইব। কারও বিরুদ্ধে শুধু মুখে মুখে অপবাদ দেওয়া কোনোভাবেই ঠিক নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি অনেক আগে থেকেই সমবায় কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানার কথা।’
সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান রুহুল আমিন ভূঁইয়া, সদস্য জসিম উদ্দিন, মনির ইসলাম, মোহাম্মদ শহিমিয়া, মো. হুমায়ুন কবির এবং সাবেক সমিতির সদস্য মোহাম্মদ সিরাজুল হকসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।